সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতা | Indus Valley Civilization

বিস্তৃতি: উত্তরে মান্ড্য (বর্তমানে জম্মুতে) থেকে দক্ষিণে দাইমাবাদ। পূর্বে আলমগীরপুর (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) থেকে পশ্চিমে সুতকাগেন্ডর (বালুচিস্তানে) পর্যন্ত।

সিন্ধু সভ্যতার: আদি বা প্রাথমিক স্তর পরিলক্ষিত হয় কোটদিজি, আমরি, হরপ্পা, কালিবঙ্গা ও বনওয়ালিতে। মধ্যবর্তী বা পূর্ণবিকাশস্তর পরিলক্ষিত হয় হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো, চানহুদাড়ো, কালিবঙ্গা, বনওয়ালি ও লোথানে। অন্ত বা পরবর্তী স্তর পরিলক্ষিত হয় রংপুর ও রোজদি নামক স্থানে।

  • সিন্ধু সভ্যতার অধিকাংশ মানুষই ছিল ভূমধ্যসাগরীয়, প্রোটো অস্ট্রালয়েড়, মঙ্গোলয়েড ও আলপিনীয় জাতিযোষ্ঠীর যদিও এদের মধ্যে প্রথম দুই শ্রেণির লোকই বেশি ছিল।
  • এ যুগের মানুষ সুতো ও পশমের পোষাক পরত। তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও রূপা প্রভৃতি ধাতুর ব্যবহার জানলেও লোহা আবিষ্কার করতে পারে নাই।
  • এ সভ্যতার লিপি ছিল চিত্রলিপি। লেখাগুলি ছিল প্রথমের লাইন ডান থেকে বামে ও পরের লাইন বাম থেকে ডান দিকে। এই রীতির নাম ‘বুস্ট্রোফেডন’
  • লোথালে একটি পোতাশ্রয় ছিল। রংপুর, সোমনাথ ও বালাকোট সমুদ্রবন্দর হিসাবে সুপরিচিত ছিল।
  • এ সভ্যতায় অশ্বত্থ বৃক্ষ এবং নরব্যাঘ্র (অগ্রাংশ মানুষের পশ্চাদের কিয়দংশ ব্যাঘ্রের) মূর্তি পূজো করা হত।
  • এই সভ্যতায় মৃহদেহ কবর দেওয়া হত (কিছুক্ষেত্রে কফিনে পুরে) এবং সেই দেহ শায়িত হত উত্তর দক্ষিণে)

Q. নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করে সিন্ধু সভ্যতার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, দয়ারাম সাহনী এবং ওই বিভাগের অধ্যক্ষ স্যার জন মার্শালের উদ্যোগে সিন্ধুনদের অববাহিকায় কয়েকটি স্থানে খননকার্য শুরু হয়। সিন্ধু দেশের লারকানা জেলার মহেঞ্জোদড়ো ও পাঞ্জাবের মন্টাগোমারী জেলার হরপ্পা নামক স্থানে খননকার্যের ফলে এক অতি উন্নত ধরনের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার ভারতীয় তথা বিশ্বের সভ্যতার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানব সভ্যতার বিকাশ সম্বন্ধে এটি বহু প্রাচীন ধারণার পরিবর্তন সাধন করেছে। সিন্ধু সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

সিন্ধু সভ্যতার মানচিত্র

সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতি

সিন্ধু সভ্যতা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিম অংশে অবস্থিত সিন্ধু নদ অববাহিকায় বিকাশ লাভ করে। এই সভ্যতার বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক। এর কেন্দ্র ছিল ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গুজরাট রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অংশ। এর বিস্তৃতি ছিল উত্তরে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে দক্ষিণে ভারতের মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত।

সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতির প্রভাব

  • সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতির ফলে এই সভ্যতার সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই সভ্যতার মানুষ বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বাণিজ্য করে তাদের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে।
  • সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতির ফলে এই সভ্যতার প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। এই সভ্যতার প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশের পরবর্তী সভ্যতাগুলির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল:

সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি ব্রোঞ্জ যুগীয় সভ্যতা। এই সভ্যতার সময়কাল নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের পাশাপাশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড ডেটিং পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল সাধারণত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়:

  • প্রাথমিক পর্ব (৩৩০০-২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): এই সময়কালে সিন্ধু সভ্যতার বিকাশ শুরু হয়। এই সময়কালে শহরগুলি ছোট ছিল এবং সেগুলিতে উন্নত নগর পরিকল্পনা ছিল না।
  • পূর্ণাঙ্গ পর্ব (২৬০০-১৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): এই সময়কালে সিন্ধু সভ্যতা তার সর্বোচ্চ বিকাশ লাভ করে। এই সময়কালে শহরগুলি বড় হয়ে ওঠে এবং সেগুলিতে উন্নত নগর পরিকল্পনা দেখা যায়।
  • পতনের পর্ব (১৯০০-১৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): এই সময়কালে সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময়কালে শহরগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জনবসতি কমতে থাকে।

বেশকিছু দ্রব্য আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সভ্যতা সুমের, মেসোপটেমিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের সভ্যতার সমসাময়িক। Dr. Ramesh Majumder যথার্থই বলেছেন, “The antiquity of civilisation in India is thus carried back nearly to the same period which witnessed the growth of ancient civilisation in Egypt, Assyria and Babylonia.”

সিন্ধু সভ্যতার রূপ:

খননকার্যের ফলে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ হতে প্রাচীন সিন্ধুদেশবাসীর জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিকের কিছু কিছু পরিচয় পাওয়া যায়-

  • সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা: ধ্বংসাবশেষ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় নগরগুলি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি এবং প্রায় ২০ ফুট উচ্চ কাঁচা ইট দ্বারা প্রস্তুত ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। শহরগুলিতে দেখা গেছে প্রশস্ত রাস্তা। রাস্তার উভয় পার্শ্বে ছোটো-বড়ো বিভিন্ন তলাবিশিষ্ট দালান। প্রত্যেকটি গৃহ থেকে জল নিষ্কাশনের সু-বন্দোবস্ত ছিল, রাস্তার তলদেশ দিয়ে নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছিল। রাস্তা, ঘাট, নর্দমা, কূপ, দেওয়াল, দালান সব কিছুই পোড়া ইটের তৈরি ছিল। মহেঞ্জোদড়ো নগরে ৩৯ ফুট লম্বা, ২৩ ফুট প্রশস্ত এবং ৮ ফুট গভীর বাঁধান স্নানাগার একটি আশ্চর্য জিনিস। এই সমস্ত দেখলে সহজেই উপলব্ধি করা যায় প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকাবাসী অতি উন্নত ধরনের। নাগরিক জীবনযাপন করত। “These and smaller trial excavations at various other sites in Sind and in Baluchistan have proved beyond doubt that some five thousand years ago a highly civilised community fluorished in these regions.”- Advanced History of India.
  • সিন্ধু সভ্যতার খাদ্য ও গৃহ পালিত পশুঃ একথা নিঃসন্দেহে ধরে নেওয়া যায় যে, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীগণ এক উন্নত ধরনের অর্থনৈতিক জীবনযাপন করত। গম, বার্লি, ধান, খেজুর ও অন্যান্য ফলমূল তারা খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করত। নানারকম মাংস ও মাছ তাদের খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুগ্ধও তারা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ ভেড়া, মহিষ, যাঁড়, হাতী, উচ্চ প্রভৃতি ছিল তাদের গৃহপালিত পশুর মধ্যে কয়েকটি। অন্যান্য জানোয়ার, পাখি তাদের জানা ছিল। কিন্তু অশ্বের অস্তিত্বের বেশি নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
  • সিন্ধু সভ্যতার পোশাক পরিচ্ছদ ও অলঙ্কারঃ সিন্ধু সভ্যতার মানুষরা সাধারণত সুতির কাপড় পরিধান করত। তারা বিভিন্ন ধরনের গহনাও পরত, যার মধ্যে রয়েছে সোনার, রূপার, এবং ব্রোঞ্জের গহনা। সে যুগে স্ত্রীর উভয়ই বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার ব্যবহার করত এবং স্ত্রীলোকেরা কেশবিন্যাস করত। স্বর্ণ, রৌপ্য, তাজ, মূল্যবান পাথর দিয়ে তারা অলঙ্কার প্রস্তুত করতে জানত।
  • সিদ্ধ সভ্যতার গহস্থালি জিনিশপত্র ও শিল্পকলাঃ মহেঞ্জোদড়োতে দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারের উপযোগী মাটির পাত্র, বিভিন্ন ধাতুর তৈরি পাত্র, সূচ, চিরুনি, আয়না, থালা, বাটি, কুঠার প্রভৃতি বহু জিনিস পাওয়া গিয়েছে যেগুলি তাদের উন্নত ধরনের জীবনযাত্রার পরিচয় দেয়। সুতরাং কৃষিকার্য ছাড়াও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ও বিভিন্ন ধাতু মিশ্রণে তারা যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছিল। শিল্পকলাতেও তারা যথেষ্ট উন্নতির পরিচয় দিয়েছে। ব্রোঞ্জ-নির্মিত নর্তকী মূর্তি ও বহু সংখ্যক পশুর প্রতিকৃতি প্রভৃতি যে যুগের শিল্পীদের উন্নত শিল্পজ্ঞানের ও রুচির পরিচয় দেয়। সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন কেন্দ্র হতে বহু সীলমোহর আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলির ওপর অঙ্কিত মানুষ ও পশুর মূর্তিগুলিও তাদের শিল্পজ্ঞানের পরিচয় বহন করছে। সীলমোহরগুলির ওপর কতকগুলি চিত্রলিপিও লিখিত আছে সেগুলির পাঠোদ্ধার করা হয়নি।
  • সিন্ধু সভ্যতার আর্থিক অবস্থাঃ ব্যবসায়-বাণিজ্যেও তারা যথেষ্ট অগ্রসর ছিল। সীলমোহরগুলি ব্যবসায়-বাণিজ্যে ব্যবহৃত হত। এটি সুনিশ্চিত যে, টিন, তামা, মূল্যবান পাথর প্রভৃতি জিনিস ভারতের বহির্দেশ হতে আমদানি করা হত। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানের সাথেও তারা বাণিজ্যিক যোগাযোগ রক্ষা করত। স্কুল ও জলপথ উভয়ের সদ্ব্যবহার তারা করত। গুজরাটের অন্তর্গত লোখালের ধ্বংসাবশেষ হতে পোতাশ্রয়ের নিদর্শন পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ম্যাকির মতে সিন্ধু সভ্যতার সাথে সুমের ও পশ্চিম-এশিয়ার সাথে জলপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। মহেঞ্জোদড়ো ও হরপ্পায় ধ্বংসাবশেষ হতে হরপ্পা সভ্যতার মানুষদের সামুদ্রিক তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রাপ্ত ঝিনুকের সাক্ষ্য প্রমাণ হতে অনুমান করা হয় যে সিন্ধুবাসীরা সমুদ্রপথে চলাচলে অভ্যস্থ ছিল। গুজরাটের অন্তর্গত লোথালে পোতাশ্রয়ের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। পোতাশ্রয়ের দীর্ঘাকৃতি দেখে মনে হয় বৃহদাকার নৌযান চলাচল করত।
  • সিন্ধু সভ্যতার ভাষা ও ধর্ম: এখানকার ভাষা সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান লাভ করা এখনো সম্ভব হয়নি। সীলমোহরের ওপর বা তাম্র-পাত্রের ওপর যে সমস্ত অক্ষর বা চিত্র-লেখন আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলির পাঠোদ্ধার এখনো সম্ভব হয়নি। সুতরাং এখানকার রাজনৈতিক ইতিহাস সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি। তাদের ধর্ম সম্বন্ধেও কয়েকটি নিদর্শন হতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মন্দিরের মতো কিছু আবিষ্কৃত হয়নি। বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী-মূর্তির আধিক্য দেখে মনে হয় যে তাদের মধ্যে মাতৃপূজার প্রচলন ছিল। একটি শিব-মূর্তির মতো তিনটি শিং-যুক্ত মূর্তিও আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্ভবত এই সময় শিবলিঙ্গের পূজারও প্রচলন ছিল। তাছাড়া দেব-দেবী জ্ঞানে গাছ, পাথর, পশুপক্ষীরও পূজা হত। বিভিন্ন উপায়ে মৃতদেহ সৎকার করবার ব্যবস্থা ছিল।
  • সিন্ধু সভ্যতার সমাজ ও সংগঠন: সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক সংগঠনে শ্রেণিবিভক্‌ত সমাজের প্রভাব দেখা যায়। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদড়োতে আবিষ্কৃত নিদর্শনের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ওই সময় সমাজে তিনশ্রেণির মানুষের অস্তিত্ব ছিল-বিত্তশালী শাসকগোষ্ঠী, ধনী ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও দরিদ্র শ্রমিক ও কারিগরি জনগণ। মহেঞ্জোদড়ো ও হরপ্পায় আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ গৃহগুলি হতে শ্রেণিবিভক্ত সমাজ জীবনের পরিচয় মেলে। মিশর ও ব্যাবিলনের মতো হরপ্পা সভ্যতায় সমাজে পুরোহিতদের বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সুমের ও মিশরের মধ্যবিত্ত শ্রেণির তুলনায়হরপ্পার মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংখ্যাধিক্য ছিল। শ্রমিক ও কারিগরদের অনেকেই ছিল পুরোহিত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রীতদাস।

সিন্ধু সভ্যতা ছিল মূলত একটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা, কিন্তু এই সভ্যতার বিবর্তনে রক্ষণশীলতার প্রতিফলন দেখা যায়। মহেঞ্জোদড়োতে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নয়টি স্তরে দালান কোঠা আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্যেকটি স্তরের নির্মাণ কৌশল ছিল অভিন্ন। প্রতিটি স্তরে একই ধরনের পরিকল্পনা অনুসারে রাস্তাঘাট নির্মিত হয়েছিল। সিন্ধু সভ্যতার রক্ষণশীল ও অবিচ্ছিন্ন চরিত্র লক্ষ্য করে অধ্যাপক পিগট মন্তব্য করেছেন যে এই সভ্যতা অপরিবর্তনশীল ধর্মীয় শাসনের ঐতিহ্য বহন করেছিল।

সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ:

সিন্ধু সভ্যতা ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা। এই সভ্যতা প্রায় ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। তবে, সাধারণত যে কারণগুলিকে সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেগুলি হল:

  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ: সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু, গঙ্গা, যমুনা প্রভৃতি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ছিল। এই নদীগুলির বন্যা সিন্ধু সভ্যতার জন্য একটি বড় সমস্যা ছিল। বন্যার ফলে ফসল নষ্ট হতো, সম্পদ ধ্বংস হতো এবং মানুষের জীবনহানি ঘটতো। বন্যার পাশাপাশি, ভূমিকম্প, খরা, মহামারী প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগও সিন্ধু সভ্যতার পতনে ভূমিকা রেখেছিল।
  • সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে। তবে, এই শাসনের শক্তি হ্রাস পাওয়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই অস্থিরতার ফলে, সভ্যতার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়।
  • বহিঃশত্রু আক্রমণ: সিন্ধু সভ্যতার উত্তরে ছিল আর্য সভ্যতা। আর্যরা সিন্ধু সভ্যতার প্রতিবেশী ছিল এবং তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ছিল। এই সংঘর্ষের ফলে সিন্ধু সভ্যতার পতন হতে পারে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।

এই কারণগুলির পাশাপাশি, সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য আরও কিছু কারণকে দায়ী করা হয়। যেমন, সভ্যতার মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি, ধর্মীয় গোঁড়ামি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভাব প্রভৃতি।

সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ সম্পর্কে এখনও গবেষণা চলছে। তবে, উপরে উল্লেখিত কারণগুলিকেই সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উপসংহারঃ ভারতের তথা বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস রচনায় ইহা অনেক নূতন নূতন তথ্য সরবরাহ করেছে এবং অনেক পুরাতন ধারণার পরিবর্তন সাধন করেছে।

  • কয়েক বৎসর পূর্ব পর্যন্তও ঐতিহাসিকগণের ধারণা ছিল যে আর্যদের আগমনের পর এ দেশে সভ্যতার বিস্তার হয়। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার সে ধারণার পরিবর্তন সাধন করে দেখিয়েছে যে আর্যদের আগমনের সহস্র বছর পূর্বেও এ দেশের লোক এক উচ্চ ধরনের সভ্যতার অধিকারী হয়েছিল।
  • এই সভ্যতা আবিষ্কারের ফলে বিশ্বের প্রাচীন সভ্য জাতিগুলির মধ্যে ভারত তার স্থান গ্রহণ করতে সক্ষম কারণ প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতা সুমের, ব্যাবিলন, মিশর ও আসিরিয়ার সমসাময়িক।
  • বৈদিক যুগের ধর্মাচরণের কয়েকটি বিষয়ের মূল সিন্ধু সভ্যতার মধ্যে পাওয়া গেছে। উভয়ের মধ্যে কোনো কোনো স্থানে যোগসূত্র স্থাপন করা গেছে। ধর্মভাব এবং ধর্মাচরণের কিছুটা ধারাবাহিক ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করা গেছে। “That the Indus Valley Civilisation has be very important contributory factor to the growth and development of civilisation in this country admits of no doubt.”-Advanced History of India.

সিন্ধু সভ্যতার মূল বৈশিষ্ট্য – PDF

সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতা | Indus Valley Civilization – FAQs

Q. হরপ্পা সভ্যতা কাকে বলে?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা কোন যুগের সভ্যতা?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা কে কবে আবিষ্কার করেন?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
Ans:
Q. সিন্ধু সভ্যতা কে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয় কেন?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার শস্যাগারটি কোথায় অবস্থিত?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার শিল্পকলা ও কারিগরি শিল্প কেমন ছিল?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার লিপির নাম কি?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার দুটি কেন্দ্রের নাম কি?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার সামাজিক জীবন কেমন ছিল?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার ধর্মীয় জীবন কেমন ছিল?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার স্নানাগার কোথায় অবস্থিত?
Ans.
Q. রাজস্থানে অবস্থিত হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন কোনটি?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা কে কেন তাম্র প্রস্তর যুগের সভ্যতা বলা হয়?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার লোকেদের ভাষা কি ছিল
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার বাড়ি গুলি কি দিয়ে তৈরি হতো?
Ans.
Q. মেহেরগড় সভ্যতা ও হরপ্পা সভ্যতার পার্থক্য কি?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা ও বৈদিক সভ্যতার পার্থক্য কি?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধাতুর ব্যবহার জানত না?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতার পতনের কারণ কি?
Ans.
Q. সিন্ধু নদীর তীরে হরপ্পা সভ্যতা কেন গড়ে উঠেছিল?
Ans.
Q. হরপ্পা সভ্যতা বর্তমানে কোথায় অবস্থিত?
Ans.

Leave a Comment