আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন | Nana Ronger Itihas

 



‘আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন” বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একটি  সংগীত হয়ে উঠল বিশ্ব মানবতার অনুপ্রেরণার হাতিয়ার।


পঞ্চাশ এর দশক। বিশ্ব যুদ্ধের দামামা শেষ হলেও পৃথিবীতে শুরু হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্লক, পুজিবাদী ব্লক এর দ্বন্দ, কোরিয়া যুদ্ধে ঝড়েছে রক্ত, পৃথিবীতে তখনও র‍য়ে গেছে বর্ণবাদ, জাতিগত সহিংসতা। একসময়ের স্বপ্নের ভারতবর্ষ ভেঙেছে দ্বিজাতীতত্তের ভিত্তিতে। আমেরিকায় তখন রক্ত ঝড়াচ্ছে কালো বর্ণের আফ্রিকান আমেরিকানরা, মার্টিন লুথার কিং আবিভার্ব হয়েছেন বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীর এক আলোর পদযাত্রী হিসেবে।সময়টা ১৯৫৭, মার্টিন এসেছিলেন হাইল্যান্ডার ফোক স্কুলে।উদ্দেশ্য ছিল সিভিল রাইট মুভমেন্ট এর জন্য তরুণ যুব সমাজকে জাগ্রত করা।সেই অনুষ্ঠানে গিটার হাতে মহাকাব্যিক এক সংগীত উপহার দিয়েছিলেন শেতাঙ্গ সংগীত শিল্পী  পিটার সিগার, যা মানবসভ্যতার একটি থিম সংয়ে পরিণত হয়।এই সংগীত বিমোহিত করে মার্টিন লুথার কিং কে। তিনি সেদিন বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে বন্ধুদের কাছে সংগীতটি নিয়ে তার আবেগ প্রকাশ করেন।I have আ Dream নামক সেই মহাকাব্যিক ভাষণের পেছেনে যে এই সংগীত এর অনুপ্রেরণা রয়েছে তা হাইপোথিটিকালি বলাটা বোধহয় অন্যায় হবে না। পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকে এই সংগীত হয়ে উঠে আফ্রিকান আমেরিকান আন্দোলনকারীদের অনুপ্রেরণাদায়ী সংগীত যা পরবর্তীতে বিশ্ব মানবতার গণ জাগরণের সংগীতে পরিণত হয়।


তবে, পিটার সিগারই প্রথম ব্যক্তি নন যিনি এই গানটি সর্বপ্রথম গেয়েছিলেন।এটি মূলত ছিল ইউরোপীয় প্রাচীন সংগীতের একটি প্রতিরুপ। এই সংগীত এর মেলোডির সাথে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ এর সংগীত প্রেয়ার অব দ্যা সিচিলিয়ান মেরিনার্স এবং ও সান্তিশিমা নামক সংগীত এর সাথে।এই সংগীতগুলোকে সেই সময়ের আফ্রিকান দাসত্বের অভিশাপে জর্জরিত মানুষেরা   will be alright, No More Auction Block For Me নামে গাইতেন নিজেদের উজ্জীবিত রাখার জন্য। আমরা করব জয় ধরনের একপ্রকার লিরিক্স সেসময় থেকেই প্রচলিত ছিল।বিংশ শতাব্দীর দিকে আরেকটি গস্পেল সংগীত এর পরিচয় পাওয়া যায় যার নাম ছিল I will overcome someday। মেলোডিস্ট মিনিস্টার এর লেখা এবং ডক্টর চার্লস টিন্ডলের কম্পোজ করা এই সংগীতটি কিঞ্চিত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।


বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষ এর আন্দোলনে  will overcome সংগীতটি ব্যবহৃত হয় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে।সংগীতটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেসময় আফ্রিকান আমেরিকান আন্দোলনকারী নারীরা স্ট্রিট সং হিসেবে এই গানটি ব্যবহার করে ঘন্টায় ত্রিশ সেন্ট উপার্জন করত।অর্থাৎ এর অনুপ্রেরণাদায়ী লিরিক্স এর জন্য রাতারাতি আমেরিকার বিখ্যাত লোক সংগীতে পরিণত হয় I will overcome. এগুলো জানা যায় সেইসময় এর নারী আন্দোলকারী লুসিয়া সিমন্স এর কাছ থেকে।এরপর তার পরামর্শে এই সংগীতটিকে I will overcome থেকে We will overcome এ রুপান্তর করা হয়।এর দুবছর পর ১৯৪৭ সালে লুসিয়া সিমন্স এই সংগীতটি হাইল্যান্ডার ফোক স্কুলে পরিবেশন করেন।জিল্পিয়া হর্ডন, কালচারাল প্রোগ্রাম এর প্রধান এই সংগীতটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজে আয়ত্ব করেন।তার থেকে এটি শিখে নেন পিটার সিগার যিনি We will কে We Shall এ রুপান্তর করে আরও শ্রুতিমধুর করেন এই সংগীতটি।আর এভাবেই পূর্ণতা পায় We shall overcome গানটি।পরবর্তীতে জোয়ানা ব্রিজ এর কন্ঠেও গানটি  বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।


একজন শেতাঙ্গ হয়েও পিটার সিগার গিটার হাতে মার্টিন লুথার কিং যেভাবে আবেগ উচ্ছাস দিয়ে গিটার হাতে এই গানটি গেয়েছিলেন বেশ কিছু অনুষ্ঠানে, তা হয়ে গেল পুরো পৃথিবীর সব রঙয়ের বর্ণের মানুষদের এক অনুপ্রেরণার উৎস।।এভাবেই সংগীত এর মূর্ছনা মানুষকে এক সুতোয় গাঁথে।

“we shall overcome, we shall overcome someday 

Deep in my heart, I do believe, we shall overcome come someday,”

এই স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু এই স্বপ্ন নিয়েই আমাদের লড়ে যেতে হবে।

কবি সুকান্ত যেমন বলে গিয়েছিলেন “যতদিন দেহে আছে প্রাণ,প্রাণপণে সড়াব পৃথিবীর জঞ্জাল, এ বিশ্বকে শিশুর জন্য বাসযোগ্য করে যাব,নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”


কলমে – এহসান আহমেদ খান, মতামত নিজস্ব।




এহসান আহমেদ খান
তৃতীয় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি



।। আগ্রহী লেখকদের আহ্বান।।

আপনাদের মূল্যবান লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের। যেকোনোও সময়, যেকোনও দিন। আমরা প্রকাশ করবো।

বিষয়:-
বিজ্ঞানের আবিষ্কার,চলচ্চিত্র, খেলাধুলা, সভা-সমিতি, মনীষীদের জীবন, ধর্মান্ধতা, সামাজিক সংকট, কুসংস্কার বিরোধী, পলিটিক্যাল স্ক্যাম, পলিটিক্যাল ইস্যু, পলিটিক্যাল টেরোরিজম, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন যেকোন বিষয়েই লেখা পাঠানো যাবে।

নির্দিষ্ট কোন শব্দ সীমা নেই।
WhatsApp করে লেখা পাঠান:- 8116447650

…. প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আমাদের WhatsApp নম্বরে

2 thoughts on “আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন | Nana Ronger Itihas”

Leave a Comment