ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ (Fascism in Italy) | History Note in Bengali – Free PDF [Download]

 


কী কী কারণ ছিল, যা ইতালিতে ফ্যাসিবাদবাদের উত্থানের দিকে পরিচালিত করেছিল?

 ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ?

 ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ কী কারণ ছিল ?

What were the Factors, which led to the rise of Fascism in Italy?


প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের কয়েকটি দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতন ঘটে [ G. Hardy – Short History of International Affairs] । ইতালিতে গণতন্ত্রের পতন এবং স্বৈরতন্ত্রবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তির উদ্ভব যুদ্ধোত্তর ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান ঘটনা। কোন একটি নির্দিষ্ট কারন নয়, একাধিক কারনের সমন্বয়ে এই ফ্যাসিস্ট শক্তি আত্মপ্রকাশ করেছিল। ঐক্যবদ্ধ ইতালির সম্মুখে 1870 সালে এমন কতকগুলি সমস্যার সৃষ্টি করে যা সমাধান করার চেষ্টা সরকারের কোন মন্ত্রী সভা করেননি। উত্তর ইতালি শিল্পে অগ্রসর ও মোটামুটি সচ্ছল হলেও দক্ষিণ ইতালি ছিল অনগ্রসর অঞ্চল। উভয় অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সমতা আনার কোনো চেষ্টা না করায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর দক্ষিণের আস্থা নষ্ট হয়। ফ্যাসিস্ট নেতা মুসোলিনি এর পূর্ণ সুযোগ নেন। এই বৈষম্যমূলক নীতি ইতালির উদার তান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটায় এবং ফ্যাসিবাদের পথ প্রস্তুত করে।




ভৌগলিক দিক থেকেও ইতালি ছিল বৈষম্যের শিকার। শিল্প স্থাপনের কয়লা, লোহার মত খনিজ সম্পদের জন্য ইতালিকে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। ইতালির তিনদিক ছিল ভূমধ্যসাগরের জলরাশি দিয়ে পরিপূর্ণ। যা ছিল তার বহির্বিশ্বে যোগাযোগের একমাত্র পথ। কিন্তু এই ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের। তাই ভূমধ্যসাগরে বন্দি ইতালিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখলের জন্য আগ্রাসন নীতি নেওয়া ছিল অতি আবশ্যক।




প্যারিস শান্তি সম্মেলন ও ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতা পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদ উত্থানের কারণ। এই সম্মেলন গুলি হতে ইতালি প্রায় খালি হাতে ফিরে আসে। ফলে ইতালি বাসীদের মনে দারুন হতাশার দেখা দেয়। ভার্সাই সন্ধির ইতালি যে সমস্ত স্থানগুলি দাবি করে সেগুলি সে পায়নি। এছাড়া ইতালির লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ইতালি ব্রিটেন ও ফ্রান্স উপনিবেশ দখলের দাবি জানায়। কিন্তু ভার্সাই সন্ধিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উপনিবেশ গুলিকেই অক্ষত রাখা হয়। ফলস্বরূপ ইতালি ভার্সাই সন্ধি ত্যাগ করে। তখন থেকেই ইতালিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী উদ্ভব হয়। এই গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শক্তিতে পরিণত হয়।




এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে দারুন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। যুদ্ধ ফেরত বহু সেনা ছাঁটাই হয়। এরা কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে পরে। যুদ্ধের দরুন জিনিসপত্রের দাম অসম্ভব বৃদ্ধি পায়। ইতালির এই দুর্দশা মোকাবিলায় উদারতন্ত্রী সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়। এদিকে ইতালির সমাজতান্ত্রিক দল ইতালিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই মুক্তির একমাত্র পথ বলে প্রচার চালায়। সমাজতান্ত্রিক পত্রিকা ‘আভান্তি’ ইতালির কৃষকদের দারুণভাবে প্রভাবিত করে। অনেকে মনে করেন যে, ইতালিতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব অসন্ন। আবার নিরন্তর ধর্মঘট, রাস্তাঘাটে খণ্ডযুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নামে পলিতারিয়েত শ্রেণীকে ক্ষেপিয়ে তোলার ফলে উদারতন্ত্রি সরকার অসহায় হয়ে পরে। ইতালির শিল্পপতি ও বুর্জোয়া শ্রেণি এই সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। তারা মুসোলিনির নেতৃত্বে গঠিত ফ্যাসিস্ট শক্তিকেই তাদের একমাত্র রক্ষাকবচ বলে মনে করে।


উপরোক্ত পরিস্থিতিতে শক্তিশালী মুসোলিনি যুদ্ধ ফেরত বেকার সেনা এবং যুবকদের নিয়ে এক আধা সামরিক সেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন। তিনি এর নাম দেন ফ্যাসিষ্ট। মুসোলিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি অরাজকতা ও বিশৃংখলা থেকে দেশকে মুক্ত করবেন। তিনি কমিউনিস্টদের তীব্র বিরোধিতা করেন। 1919 খ্রিস্টাব্দে তিনি “ফ্যাসিস্ট সংগ্রামী বাহিনী” গড়েন। কিন্তু জেমস্ জোল এর মতে, “ফ্যাসিবাদের আদর্শ দর্শন তত্ত্ব ছিল অন্তঃসারশূন্য শব্দাড়ম্বর মাত্র।” [J. Joll – Europe Since 1870, p3, 4]। তথাপি বলা যায়, ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ফ্যাসিবাদ ও মুসোলিনি অধ্যায় ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

Leave a Comment