পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য

পুরীর জগন্নাথ মন্দির হল ভারতের পূর্ব উপকূলে ওড়িশা রাজ্যের পুরী শহরে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। এটি হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্রতম স্থান এবং ভারতের চারধামের একটি। মন্দিরটি ঈশ্বর বিষ্ণুর একটি রূপ জগন্নাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

জগন্নাথ মন্দিরটি একটি ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি ১২ শতকে আবন্তির সোমবংশ রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি একটি বিশাল চত্বরে অবস্থিত, যা বিভিন্ন মন্দির, স্তম্ভ এবং অন্যান্য স্থাপত্য দ্বারা বেষ্টিত। মন্দিরটিতে তিনটি প্রধান মন্দির রয়েছে: জগন্নাথের মন্দির, বলভদ্রের মন্দির এবং সুভদ্রার মন্দির। এই মন্দিরগুলিতে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার বিশাল কাঠের মূর্তি রয়েছে।

জগন্নাথ মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হিন্দু ভক্ত এই মন্দিরটিতে তীর্থযাত্রা করেন। মন্দিরটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল রথযাত্রা। রথযাত্রা হল একটি বার্ষিক উৎসব যেখানে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার মূর্তি তাদের রথে করে পুরীর রাস্তায় প্রদক্ষিণ করে।

জগন্নাথ মন্দিরটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। এটি একটি সুন্দর এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য যা হিন্দু ধর্মের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

মন্দির তৈরীর ইতিহাস

কোনটিই সত্যি নাকি তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, তবে এটি নিশ্চিত যে মন্দিরটি অনেকবার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান মন্দিরটি 12 শতকে পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের রাজা আনন্দমঙ্গল দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।

মন্দিরটি একটি বিশাল জোড় বাঁকানো রথের মতো দেখতে। এটি 228 ফুট (69 মিটার) উঁচু এবং 100 ফুট (30 মিটার) প্রশস্ত। এটি কালো গ্রানাইট দিয়ে তৈরি এবং এটি 12টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি বড় হল রয়েছে যেখানে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার বিগ্রহ রয়েছে। বিগ্রহগুলি কাঠের তৈরি এবং সেগুলিকে প্রতিদিন নতুন কাপড়ে পরিহিত করা হয়।

জগন্নাথ মন্দির একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান এবং প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হিন্দু এখানে যান। মন্দিরের সবচেয়ে বিখ্যাত উৎসব হল রথযাত্রা, যা প্রতি বছর জুন মাসে হয়। এই উৎসবে, জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার বিগ্রহগুলি তিনটি রথে চড়ে শহরের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে।

মন্দিরের রহস্য

  • মন্দিরের স্থাপত্য
  • পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি একটি বিশাল এবং জটিল স্থাপত্য। এটি একটি বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত, যার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ৫৬১ ফুট। মন্দিরটি তিনটি স্তরে বিভক্ত: ভূমি, মধ্যম এবং উপরের। প্রতিটি স্তরটি আরেকটির উপরে উঁচু এবং মন্দিরটি মোট ৬৫ ফুট উঁচু।
  • মন্দিরের স্থাপত্যটি অত্যন্ত জটিল এবং সুন্দর। এটিতে বিভিন্ন ধরণের স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ শৈলী। মন্দিরটিতে বিভিন্ন ধরণের স্থাপত্য উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভাস্কর্য, নকশা এবং খোদাই।
  • মন্দিরের স্থাপত্যটি এতটাই জটিল যে এটি এখনও সম্পূর্ণরূপে বোঝা যায় না। কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে মন্দিরটিতে কিছু গোপন বার্তা বা রহস্য রয়েছে যা এখনও সমাধান করা হয়নি।
  • মন্দিরের শিল্পকর্ম
  • পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি তার শিল্পকর্মের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরটিতে বিভিন্ন ধরণের শিল্পকর্ম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভাস্কর্য, নকশা এবং খোদাই।
  • মন্দিরের ভাস্কর্যগুলি অত্যন্ত সুন্দর এবং বিশদ। এগুলি হিন্দু দেবদেবী, রাজা-রানি এবং অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চিত্রিত করে। মন্দিরটির নকশাগুলিও অত্যন্ত সুন্দর এবং বিশদ। এগুলি ফুল, পাখি এবং অন্যান্য প্রকৃতির বিষয়গুলিকে চিত্রিত করে। মন্দিরটির খোদাইগুলিও অত্যন্ত সুন্দর এবং বিশদ। এগুলি হিন্দু ধর্ম এবং দর্শনের বিভিন্ন বিষয়কে চিত্রিত করে।
  • মন্দিরের শিল্পকর্ম এতটাই সুন্দর এবং বিশদ যে এটিকে “জীবন্ত শিল্প” বলা হয়। এটি মনে হয় যে ভাস্কর্যগুলি, নকশাগুলি এবং খোদাইগুলি জীবিত এবং যেন তারা কথা বলছে।
  • মন্দির ছায়ার রহস্য: সূর্যের অবস্থান যাই হোক না কেন, দিনের কোনও সময়ই মন্দিরের ছায়া মাটিতে পড়ে না। এই ঘটনাটিকে অনেকে অলৌকিক বলে মনে করেন।
  • মন্দির চূড়ায় চৌম্বক শক্তির রহস্য: মন্দির চূড়ায় একটি শক্তিশালী চৌম্বক শক্তি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই শক্তির কারণে, কোনও পাখি বা অন্যান্য প্রাণী কখনও মন্দিরের চূড়ায় উড়তে পারে না।
  • জগন্নাথ দেবের মূর্তির রহস্য: জগন্নাথ দেবের মূর্তিগুলি কে তৈরি করেছিল তা আজও অজানা। এই মূর্তিগুলি কাঠের তৈরি এবং এগুলি প্রতি বছর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়। নতুন মূর্তিগুলি কোথা থেকে আসে তাও রহস্য।
  • রথযাত্রার রহস্য: রথযাত্রা হল পুরীর একটি বিখ্যাত উৎসব যেখানে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তিগুলি তাদের রথগুলিতে শহরের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। এই রথগুলি এত ভারী যে সেগুলিকে টানতে কয়েক হাজার লোকের প্রয়োজন হয়। তবে, রথযাত্রার দিন, রথগুলি এত সহজেই চলে যে সেগুলিকে টানতে কোনও প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না।
  • এই রহস্যগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। কিছু লোক বিশ্বাস করে যে এই রহস্যগুলি ঈশ্বরের আশীর্বাদ বা অলৌকিকতার প্রমাণ। অন্যরা বিশ্বাস করে যে এই রহস্যগুলি প্রযুক্তিগত বা স্থাপত্যগত বিষয়গুলির কারণে ঘটতে পারে। যাইহোক, এই রহস্যগুলি এখনও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে একটি রহস্যময় এবং আকর্ষণীয় স্থান করে তোলে।

Leave a Comment