History Notes – উত্তরবঙ্গের ইতিহাস | History of Nort Bengal

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

ঐতিহাসিকভাবে উত্তরবঙ্গ একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এই নোটে আমরা Colonial যুগে তার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করব।

প্রাচীন যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৩ শতক – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ):

  • পাল রাজবংশ (৭৫০-১১৬২ খ্রিষ্টাব্দ): উত্তরবঙ্গ দীর্ঘকাল পাল রাজবংশের অধীনে শাসিত হয়। ধর্মপাল, দেবপাল, মহীপাল প্রভৃতি শাসকেরা অঞ্চলটির শিল্প, সাহিত্য ও বাণিজ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

“পাল রাজাদের শাসনকালে উত্তরবঙ্গে বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং ওদন্তপুরী (বর্তমান পাহাড়পুর) বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।” – রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ।

  • কামরূপ রাজ্য (৩৫০-১৩১0 খ্রিষ্টাব্দ): উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভাস্কর বর্মা ও রত্নপালদেবের শাসনকালে রাজ্যটি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।

“কামরূপ রাজ্যের মন্দির ও শিল্পকলা ভারতীয় শিল্পকলা ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় গঠন করে।” – ডঃ পঞ্চানন রায়, প্রত্নতাত্ত্বিক।

মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ):

  • মুসলিম শাসন (১২০০-১৭১3 খ্রিষ্টাব্দ): তুর্কি ও মুঘল শাসকদের অধীনে উত্তরবঙ্গ নতুন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গ্রহণ করে। সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি ও মানসিংহের মতো শাসকদের অভিযান উত্তরবঙ্গের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

“উত্তরবঙ্গের সুফি সাধকরা ইসলাম ধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের শিক্ষা ও আচার-অনুষ্ঠান হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মিলনের ইতিহাস বহন করে।” – ডঃ রাফিয়া আব্বাস, ইতিহাসবিদ।

  • কুচবিহার রাজ্য (১৪ শতক-১৮৬3 খ্রিষ্টাব্দ): উত্তরবঙ্গের স্বাধীন রাজ্য হিসেবে কুচবিহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহারাজা নরনারায়ণের শাসনকালে রাজ্যটি শিল্প ও সাহিত্যে সমৃদ্ধি লাভ করে।

“কুচবিহারের মৃণালিনী থিয়েটার ও রাসমঞ্চ শিল্প উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়।” – মৃণাল কান্তি বসু, সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদ।

History of Nort Bengal [DEC-2]

Cbpbu ug previous year question paper & Answer pdf

GROUP-A

Q. উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী রাজবংশীদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।

Briefly discuss the religious beliefs of the Rajbanshi people living in North Bengal.

Ans:

“The Rajbansis practice a syncretic religion combining Hinduism with elements of animism and shamanism,”

-Dr. Bimal Kumar Roy, Anthropologist at University of North Bengal.

রাজবংশী উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ একটি জনগোষ্ঠী, যাদের ধর্মীয় বিশ্বাস একই সাথে বৈচিত্র্যময় এবং জটিল। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমরা তাদের পুরাণ, দেবতা উপাসনা, আচার-অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্বেষণ করব।

হিন্দু ধর্মের প্রভাব:

রাজবংশীদের প্রধান ধর্ম হচ্ছে হিন্দু ধর্ম। তারা বহু দেবদেবী পূজা করেন, যার মধ্যে বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, কালী অন্যতম। তাদের গ্রামগুলোতে প্রায়ই শিবমন্দির বা কালী মন্দির দেখা যায়। তারা হিন্দু উৎসব, যেমন দুর্গাপূজা, দীপাবলী, রথযাত্রা ইত্যাদি পালন করেন।

আদিবাসী বিশ্বাসের মিশ্রণ:

“Their belief in spirits residing in natural objects reflects their deep connection with the environment,”

– Dr. Anita Basu, Folklorist at Visva-Bharati University.

হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি রাজবংশীদের মধ্যে আদিবাসী বিশ্বাসেরও উপস্থিতি রয়েছে। তারা প্রকৃতির শক্তি, যেমন নদী, গাছ, পাহাড় ইত্যাদিতে আত্মাদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। তারা এই আত্মাদের শান্ত রাখার জন্য বিভিন্ন পূজা-অনুষ্ঠান করে।

“The Rajbanshi religious practices showcase a beautiful example of cultural adaptation and evolution,” 

– Dr. Asit Kumar Sen, Historian at Jadavpur University.

বিশেষ উদাহরণ:

  • নীলকন্ঠ পূজা: এই পূজায় ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার জন্য নীল রঙের শাড়ি পরা মহিলারা পুজো দেন। এটি উর্বরতা এবং লাভের জন্য করা হয়।
  • মানসা পূজা: সাপের দেবতা মানসাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই পূজা করা হয়। মানসা পূজা মূলত: বিষাক্ত সাপের হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করা হয়।

উপসংহার:

“রাজবংশীদের ধর্মীয় বিশ্বাস হিন্দু ধর্ম এবং আদিবাসী বিশ্বাসের মিশ্রণ। এই দুইয়ের মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে, যা তাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।”

– ডঃ সুমিতা সেন, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের প্রধান।

রাজবংশীদের ধর্মীয় বিশ্বাস তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। এটি তাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে এবং তাদের সমাজকে একত্রিত করে। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা এই বিশ্বাসের কেবলমাত্র একটি ঝলক দেখায়, আরও গভীর গবেষণা এই আ fascinating cultural aspect এর আরও অনেক কিছু উন্মোচন করতে পারে।

Q. উত্তরবঙ্গে রেলপথ সম্প্রসারণ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।

Briefly discuss the expansion of railways in North Bengal.

Ans: ভূমিকা: উত্তরবঙ্গ, এককালে ব্রিটিশ শাসনের অবহেলিত অঞ্চল, আজ ভারতের পূর্বপ্রান্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অঞ্চলের উন্নয়নে রেলপথের বিস্তার অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই নোটে আমরা উত্তরবঙ্গে রেলপথের বিস্তারের ইতিহাস, এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করব।

প্রথম পর্ব: ঔপনিবেশিক যুগের শুরু (1869-1947):

  • 1869 সালে, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে (EBR) সীমান্ত শহর পার্বতীপুর থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রথম মিটার-গেজ লাইন নির্মাণ করে। এই লাইন দার্জিলিংকে কলকাতার সাথে সংযুক্ত করে এবং চা বাণিজ্যে বিপ্লব ঘটায়। ডালহৌসি চিঠিপত্রে উল্লেখ করেন, “দার্জিলিং রেলপথ ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ.”
  • 1901 সালে, শিলিগুড়ি জংশন চালু হয়, উত্তরবঙ্গের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে।
  • 1942 সালে, ব্রডগেজ লাইন শিলিগুড়িকে আসামের শিবসাগরের সাথে সংযুক্ত করে। এই লাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দ্বিতীয় পর্ব: স্বাধীনতার পর (1947-বর্তমান):

  • স্বাধীনতার পর, ভারতীয় রেলওয়ে উত্তরবঙ্গের রেলপথের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। নতুন লাইন নির্মাণ, পুরনো লাইন আপগ্রেড এবং স্টেশন সংস্কারের কাজ চালু হয়।
  • 1965 সালে, নিউ জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ার-বামনগ্রাম লাইন চালু হয়। এই লাইন উত্তরবঙ্গের পূর্ব অংশে যোগাযোগের উন্নতি সাধনে সহায়তা করে।
  • 1995 সালে, শিলিগুড়ি-বাগডোগরা লাইন চালু হয়। এই লাইন বাগডোগরা বিমানবন্দরকে রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখে।
  • 2015 সালে, হাঙ্গোয়াগোদা-বামনগ্রাম লাইন চালু হয়। এই লাইন উত্তরবঙ্গের উত্তর-পূর্ব অংশে যোগাযোগের উন্নতি সাধনে সহায়তা করে।


উত্তর বঙ্গে রেলপথের বিস্তারের প্রভাব

রেলপথের বিস্তার উনিশ শতকের ভারতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। এটি ভারতের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। উত্তর বঙ্গে রেলপথের বিস্তারও এই প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রভাব:

“উনিশ শতকের শেষদিকে রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।”

– ডা. সুভাষ চন্দ্র মৈত্র

রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এটি উত্তর বঙ্গের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজতর করেছিল, যা বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশে সহায়তা করেছিল। রেলপথের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গ থেকে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য পণ্য অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল। এটি উত্তর বঙ্গের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে সহায়তা করেছিল।

“রেলপথের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গ থেকে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য পণ্য অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল।”

ড. অমিত চক্রবর্তী

রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের শিল্প বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। রেলপথের মাধ্যমে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করা সহজ হয়েছিল। এটি উত্তর বঙ্গে নতুন নতুন শিল্পের বিকাশে সহায়তা করেছিল।

সামাজিক প্রভাব

“রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের মানুষের ভ্রমণ ও যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করেছিল।

– অধ্যাপক অরুণকুমার মুখোপাধ্যায়

রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের সমাজেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এটি উত্তর বঙ্গের মানুষের ভ্রমণ ও যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করেছিল। এটি উত্তর বঙ্গের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

“রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।”

– ড. সুকুমার সেন

রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গের সাংস্কৃতিক বিনিময়কেও সহজতর করেছিল। এটি উত্তর বঙ্গের মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শ ঘটিয়েছিল।

উপসংহার

উত্তর বঙ্গে রেলপথের বিস্তার ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি উত্তর বঙ্গের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। রেলপথের বিস্তার উত্তর বঙ্গকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করতে সহায়তা করেছিল।

Q. কোচবিহার রাজ্যের আধুনিকায়নে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের ভূমিকা আলোচনা কর।

Discuss the role of Maharaja Nripendra Narayan for modernizing the Cooch Behar state.

Ans:

ভূমিকা: ১৯ শতকের শেষ ভাগ থেকে ২০ শতকের গোড়ার দিকে কুচবিহার রাজ্যের ইতিহাসে মহারাজা নিপেন্দ্র নারায়ণ এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদিত হন। তিনি রাজ্যে আধুনিকতার বাতাস বয়ে আনেন এবং বহু ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় পরিবর্তন সাধন করেন। এই নোটে আমরা তার আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখব।

শিক্ষাক্ষেত্রে নবজাগরণ:

  • নিপেন্দ্র নারায়ণ শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি রাজ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
  • উদাহরণ: ১৮৮১ সালে তিনি সুনীতি দেবী গার্লস স্কুল এবং ১৮৮৮ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ (বর্তমানে এবিএন সীল কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন।
  • সাক্ষরতা বৃদ্ধি: তাঁর শাসনামলে কোচবিহারের সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
  • বিশেষজ্ঞ মতামত: “মহারাজা নিপেন্দ্র নারায়ণ কুচবিহারে শিক্ষার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় রাজ্যে শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।” – অধ্যাপক সুশান্ত চক্রবর্তী, শিক্ষাবিদ।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন:

  • নিপেন্দ্র নারায়ণ রাজ্যের অবকাঠামো উন্নয়নেও মনোযোগ দেন। তিনি রাস্তাঘাট, সেতু, ডাকঘর এবং রেলপথ নির্মাণ করেন।
  • উদাহরণ: ১৯০০ সালে তিনি তোর্ষা সেতু নির্মাণ করে কুচবিহারকে বৃহত্তর ভারতের সাথে যুক্ত করেন। এছাড়াও, তিনি রাজ্যের বিভিন্ন অংশে রেলপথ নির্মাণ করেন।

অন্যান্য সংস্কার:

  • প্রশাসনিক সংস্কার: তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্রিটিশ আদলে আধুনিকীকরণ করেন।
  • সামাজিক সংস্কার: তিনি বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেন এবং দাসপ্রথা বাতিল করেন।
  • কলা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা: তিনি শিল্পী, সাহিত্যিক ও কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং কোচবিহারের কলা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে অবদান রাখেন।

“মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহারের ইতিহাসে একজন মহান সংস্কারক। তাঁর শাসনামলে রাজ্যটি আধুনিকতার পথে দ্রুতগতিতে এগিয়েছিল।

– Dr. কমলেশ চন্দ্র দাস

উপসংহার: মহারাজা নিপেন্দ্র নারায়ণের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা কুচবিহার রাজ্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তিনি শাসন, শিক্ষা, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও সমাজ সংস্কার – সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তার কাজের ফল আজও কুচবিহারের উন্নয়নে চোখে পড়ে।

Q. রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার সামাজিক সংস্কারের বিশেষ উল্লেখ সহ তার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করুন।

Evaluate the activities of Rai Saheb Thakur Panchanan Barma with special reference to his social reformation.

Ans: কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা মহাকুমার খলিসামারি গ্রামের ১২৭২ সালের পহেলা ফাল্গুন (১৮৬৫) শিব চতুর্দশী তিথিতে কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ঠাকুর পঞ্চানন। কোচবিহার রাজ্যের অধীশ্বর ছিলেন তখন মহারাজের নরেন্দ্র নারায়ণ। উল্লেখ্য ঠাকুর পঞ্চাননের আবির্ভাব কাল উনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক (১৮৬৫)। যে দশকে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, ব্রজেনশীল। যাঁদের ত্যাগ, কর্ম, সরস্বত সাধনা ও জীবনদর্শনে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাংলার আপামর জনগণ।

উত্তরবঙ্গের তথা কোচবিহারের সন্তান ঠাকুর পঞ্চাননও ছিলেন এমনই এক ব্যক্তি যিনি তেইশলক্ষ রাজবংশী জাতির মানুষকে ব্রাত্যত্ব থেকে উদ্ধার করে ক্ষত্রিয়ত্বে বরণ করে ঠাকুর পঞ্চানন হয়েছিলেন। শাস্ত্র আলোচনার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছিলেন যে, “রাজবংশী জাতি” “ব্রাত্যক্ষত্রিয়”এবং তারা প্রায়শ্চিত্ত করে উপবীত গ্রহণ করলে পুনরায় ক্ষত্রিয় হবেন। আজও উত্তরবঙ্গের রাজবংশী জাতির কাছে ১৩১৯ বঙ্গাব্দের ২৭ শে মাঘ একটি পবিত্র দিন হিসেবে চিহ্নিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত কামরূপ থেকে আগত দেবশর্মা উপাধিধারী ব্রাহ্মণগণ রাজবংশী ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের পৌরোহিত্য করেন।

ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা শুধু সমাজ সংস্কারই নন, তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ সংগঠক, জননেতা ও নির্ভীক পুরুষ। মনুষ্যত্বের পূর্ণবিকাশ যে শিক্ষার মুখ্য উদ্দেশ্য এটা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যে রাজবংশী জাতির মধ্যে প্রথম এম. এ. এল. এল. বি.। শঙ্করপন্থী বৈষ্ণব সাধক দামোদর দেবের সুযোগ্য শিষ্য গোবিন্দ মিশ্রের গীতার পুঁথি আবিষ্কার তাঁর সাহিত্য কর্মের অন্যতম দিক চিহ্ন।১৯০১ খ্রিস্টাব্দে রংপুরে ওকালতি শুরু করার পরই রংপুরে প্রতিষ্ঠা করেন “উত্তরবঙ্গ সাহিত্য পরিষদ” এবং উত্তরবঙ্গের জাতির জনক রূপে পরিচিত হন। ১৮৯১ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ সুপারিনটেনডেন্ট লোক গণনায় রাজবংশী জাতিকে কোচ বলে উল্লেখ করায় তাঁর নেতৃত্বে এক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। যার ফলস্বরূপ সাহেবের নির্দেশক্রমে তৎকালীন পন্ডিত সমাজের প্রতিভূ মহামহোপাধ্যায় যাদবেশ্বর তর্করত্ন অভিমত প্রকাশ করেন যে, “কোচ ও রাজবংশী” দুটি পৃথক জাতি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাজবংশী ক্ষত্রিয় যুবকদের সৈন্য বিভাগে যোগদানে সহযোগিতা করার জন্য “রায় সাহেব” উপাধি, ও “এম. বি. ই. উপাধি” লাভ করেন। উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট আইনজীবী জলপাইগুড়ি নিবাসী উপেন্দ্রনাথ বর্মন কতৃক প্রথম প্রকাশিত হয় ঠাকুর পঞ্চানন জীবনচরিত।

উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই সমাজ সেবক, সমাজ সংস্কারক, কৃষক দরদী ও আর্ত মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ, মানুষকে ছিলেন আপাদমস্তক আদর্শ পুরুষ। প্রাচ্যবিদ্যার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসুর মতে “ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার পাণ্ডিত্যকে তিনি উত্তরবঙ্গের উজ্জ্বল দ্বীপ বলে মনে করেন।” ১৩৭১ সনে রংপুরে ক্ষত্রিয় সমাজ প্রতিষ্ঠা করে উনবিংশ শতাব্দীর শেষে রাজবংশী কৃষক সমাজকে পুনর্জীবন দান করেন।

১৯১০ খ্রিস্টাব্দে আসামের গৌরীপুর রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত “উত্তরবঙ্গের সাহিত্য সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে” খান চৌধুরী আমানত উল্লা আহমেদ, অতুচন্দ্র গুপ্ত, অক্ষয় কুমার মিত্র, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর মত ইতিহাস প্রেমী পন্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে রংপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে হাজির ছিলেন ঠাকুর পঞ্চানন। এখানেই প্রকাশিত তাঁর “কামতা বিহারী সাহিত্য” নামক প্রবন্ধ। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠ কোচবিহার সাহিত্য সভায় পুঁথি সংগ্রহের ব্যাপারেও খান চৌধুরী আমানত উল্লা সাহেবের সহযোগী ছিলেন ঠাকুর পঞ্চানন।(আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় কোচবিহার, বিশ্বনাথ দাস) ১৯১৩ সনে ক্ষত্রিয় সমিতির সাধারণ সভায় পঞ্চানন বর্মার প্রস্তাব অনুযায়ী ক্ষত্রিয় ব্যাংক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শিক্ষাজীবন কলকাতা ও কোচবিহারে অতিবাহিত করলেও তাঁর কর্ম জীবন অতিবাহিত হয় রংপুরে। মেধাবী, সমাজসেবা ও মানবদরদি হওয়া সত্ত্বেও কোচবিহার রাজরোষ থেকে মুক্ত হতে পারেননি। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের চৌঠা সেপ্টেম্বর তৎকালীন কোচবিহারের রিজিন্সি কাউন্সিল, কোচবিহার সাধারণ ও কার্যানুশাসন বিভাগের এক নোটিশে তাঁকে কোচবিহার ত্যাগ করতে হয়। পাঁচ বছর পর্যন্ত এ রাজ্য থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর অপরাধ ছিল মহারাজা ও মহারানী রিজিন্সি শাসনের প্রতি অসন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি করা। মতান্তরে, নারীর সতীত্ব ও সম্ভ্রমকে এমনই শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন যে, এর বিন্দুমাত্র আদর্শ বিচ্যুতি ঘটলে প্রতিবাদ করায় কোচবিহার রাজ্য থেকে তিনি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে নভেম্বর কোচবিহার গেজেটে।

ঠাকুর পঞ্চানন এর অন্যতম স্মরণীয় কীর্তি রাজবংশী যুবকদের সামরিক শিক্ষার মধ্যে নিজধর্মে প্রতিষ্ঠা করা এবং ক্ষত্রিয় কৃষকদের এই উদ্দেশ্যে তিনি উজ্জীবিত করে বলেন “যুদ্ধ শিক্ষাই ক্ষত্রিয় দের প্রকৃত ও প্রধান শিক্ষা“। ক্ষত্রিয় হয়ে যুদ্ধ না জানা নিন্দনীয় বিষয়। নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি কখনোই পুলিশের উপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে ধর্ষিতা নারীর উদ্ধারে ব্যবস্থা করেন এবং এরই প্রতিবাদস্বরূপ তিনি প্রতিবাদী কবিতা লেখেন “ডাং ধরি মাও“।

১৯৩৩ সনে রাজবংশী জাতিকে তপশিলি শ্রেণীভূক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চাননের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। যদিও ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে উক্ত সম্প্রদায় সুফল পেতে থাকেন।

উত্তরবঙ্গে ও আসামের ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় এই নেতার মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৯৩৫ সনের ৯ই সেপ্টেম্বর (১৩৪২ সালের ২৩শে ভাদ্র

PDF – Rai Saheb Thakur Panchanan Barma with special reference to his social reformation – Download

History of Nort Bengal [DEC-2]

Cbpbu ug previous year question paper & Answer pdf

GROUP-B

Q. দার্জিলিং-এ সিনকোনা প্ল্যান্টেশনের বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর একটি নোট লেখ।

Write a note on the growth and development of Cinchona Plantation in Darjeeling.

Ans: দার্জিলিংয়ের চিনকোনা চাষের ইতিহাস বেশ নাটকীয়। ১৮৬২ সালে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য প্রাকৃতিক কুইনাইন উৎপাদনের লক্ষ্যে এই চাষ শুরু হয়। উচ্চতা (২০০০-৪০০০ ফুট) এবং আবহাওয়া চিনকোনা গাছের জন্য উপযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুত এই চাষের ব্যাপক প্রসার দেখা যায়। ১৯০০ সালের মধ্যে, দার্জিলিং ভারতের চিনকোনা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠে এবং পুরো পাহাড়ের অর্থনীতির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।

তবে, ১৯৭০-এর দশকে সিনথেটিক কুইনাইনের উদ্ভাব এই চাষের মন্দার কাল আনয়ন করে। প্রাকৃতিক কুইনাইনের চাহিদা হ্রাস পায় এবং দার্জিলিংয়ের চিনকোনা বাগানগুলি ক্রমশঃ অবহেলিত হয়ে পড়ে। শ্রমিক ছাঁটাই, অবকাঠামোগত অবহেলা এবং আর্থিক সংকটের ফলে চাষের পরিমাণ কমে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, চিনকোনা চাষের পুনরুজ্জীবনের কিছু চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। আয়ুর্বেদিক ওষধের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে প্রাকৃতিক কুইনাইনের গুরুত্ব পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ, অলাভজনক সংস্থাগুলির প্রচেষ্টা এবং কৃষকদের উৎসাহিত করার মধ্যে দিয়ে চাষের ক্ষেত্রফল বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের চিনকোনা চাষের ইতিহাস উত্থান-পতনের দৃষ্টান্ত। এই চাষের পুনরুজ্জীবনের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, যাতে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি পুনরায় দার্জিলিংয়ের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফিরে আসতে পারে।

Q. উত্তরবঙ্গের সিপাহী বিদ্রোহ (1857) সম্পর্কে একটি নোট লেখ।

Write a note on the Sepoy Mutiny (1857) in North Bengal.

Ans: ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বিদ্রোহ উত্তরবঙ্গকেও কাঁপিয়ে তুলেছিল, যদিও এখানে বিদ্রোহের প্রকৃতি ও তীব্রতা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন ছিল।
উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্রগুলি:

  • বাঁকুড়া: ১৮৫৭ সালের জুন মাসে বাঁকুড়ার সিপাহীরা বিদ্রোহ করে এবং ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তারা জেলালপুর দুর্গ দখল করে নেয় এবং কয়েক দিন ধরে সেখানে রাজত্ব করে।
  • দিনাজপুর: দিনাজপুরের সিপাহীরাও জুন মাসে বিদ্রোহ করে এবং পুলিশ স্টেশন আক্রমণ করে। তারা জেলালপুর দুর্গের বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্রিটিশ বাহিনীর দ্বারা আটকানো হয়।
  • রংপুর: ১৮৫৭ সালের জুলাই মাসে রংপুরের সিপাহীরা বিদ্রোহ করে এবং স্থানীয় মুসলিম জনগণের সমর্থন লাভ করে। তারা রংপুর শহরের কাছে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে, কিন্তু পরাজিত হয়।

উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য:

  • সীমিত পরিসর: উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহ প্রধানত সেনাবাহিনী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটেনি।
  • স্থানীয় রাজার সমর্থন: উত্তরবঙ্গের কিছু স্থানীয় রাজা, যেমন, দিনাজপুরের রাজা, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গোপনে সাহায্য করেছিলেন।
  • ব্রিটিশদের দ্রুত প্রতিরোধ: ব্রিটিশরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্রোহ দমন করে। তারা বিদ্রোহীদের কঠোর শাস্তি দেয় এবং অন্যান্য সেনাদের ভীত করে।

উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহের গুরুত্ব:

  • ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: যদিও উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহ সফল হয়নি, তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল।
  • ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তন: বিদ্রোহের পরে ব্রিটিশরা তাদের নীতি পরিবর্তন করে। তারা সেনাবাহিনীতে ভারতীয়দের সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং আর্থসামাজিক সংস্কারের কিছু ব্যবস্থা নেয়।

Q. ঔপনিবেশিক শাসনামলে উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যার বিন্যাস সংক্ষেপে লেখ।

Write in short the demographic pattern of North Bengal during Colonial rule.


Ans: ঔপনিবেশিক শাসনামলে উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যাগত রূপরেখা বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সাক্ষী ছিল:

  • গিরিজ জনগোষ্ঠীর হ্রাস: ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বিভিন্ন গিরিজ জনগোষ্ঠী। তবে ব্রিটিশদের আগমনের পর বনাঞ্চল উজার, জমিদারি ব্যবস্থা চালু করা এবং নতুন ফসল চাষের প্রবর্তনের ফলে তাদের জীবনযাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। অনেক গিরিজ জনগোষ্ঠী their traditional lands and were forced to migrate to other areas, leading to a decline in their population.
  • অভিবাসনের বৃদ্ধি: চা, ইজারি পদ্ধতি, এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসল চাষের জন্য শ্রমিকের প্রয়োজন বৃদ্ধির ফলে ঔপনিবেশিক শাসনামলে উত্তরবঙ্গে অভিবাসন বৃদ্ধি পায়। প্রধানত বিহার, উড়িষ্যা এবং ছোটনাগপুর থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে উত্তরবঙ্গে আসেন। এই অভিবাসন জনসংখ্যার গঠন ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
  • জমিদারি ব্যবস্থার প্রভাব: ব্রিটিশরা জমিদারি ব্যবস্থা চালু করে, যা কৃষকদের জমি হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। এর ফলে অনেক কৃষক ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
  • দুর্ভিক্ষের প্রভাব: ঔপনিবেশিক শাসনামলে উত্তরবঙ্গ কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সাক্ষী ছিল, যেমন ১৭৭০ সালের চিনা মোড়া দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৩ সালের বঙ্গ দুর্ভিক্ষ। এই দুর্ভিক্ষগুলি জনসংখ্যার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, মৃত্যুর হার বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটায়।

ঔপনিবেশিক শাসনামলে উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যাগত রূপরেখার এই পরিবর্তনগুলির দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এটি আজও উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যার গঠন, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে প্রতিফলিত হয়।

Q. কোচবিহার রাজ্যের ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের উপর একটি প্রবন্ধ লেখ

Write an essay on the Brahma Samaj Movement in Princely State of Cooch Behar.

Ans: ১৯ শতকের ভারতে পুনর্নবজাগরণের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হলো ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলন। এই আন্দোলন সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার, রীতি-নিষ্ঠতা ও অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। কোচবিহার রাজ্যেও এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল, যা রাজ্যের সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রাখে।

ব্রাহ্ম সমাজের প্রবেশ: ১৮৬০-এর দশকে তৎকালীন কোচবিহারের রাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে ব্রাহ্ম সমাজ কোচবিহারে প্রবেশ করে। ১৮৭৮ সালে কেশবচন্দ্র সেনের কন্যা সুনীতি দেবীকে বিয়ে করার পর রাজা নিজে ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে কোচবিহারে ব্রাহ্ম সমাজের প্রসারে গতি আসে। রাজার পৃষ্ঠপোषणে ১৮৮৭-৮৮ সালে কোচবিহারে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

সামাজিক সংস্কার: ব্রাহ্ম সমাজ কোচবিহারে সামাজিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা জাতি-বর্ণের বৈষম্য দূরীকরণ, মহিলা শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে। ব্রাহ্ম সমাজের উদ্যোগে কোচবিহারে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়, যা মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। এছাড়াও, বিধবা বিবাহ, সতীদাহ প্রথা নিরোধ, বহুবিবাহের বিরুদ্ধেও তারা কাজ করে।

ধর্মীয় সংস্কার: ব্রাহ্ম সমাজ কোচবিহারে ধর্মীয় সংস্কার আনতেও ভূমিকা রাখে। তারা মূর্তিপূজা, অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। এক ঈশ্বরের উপাসনা, বেদ শাস্ত্রের যুক্তিগত ব্যাখ্যা ও মানবিক মূল্যবোধের উপর জোর দেয়। এতে কোচবিহারের মানুষের ধর্মীয় চিন্তায় রূপান্তর আসে।

সীমাবদ্ধতা: তবে, ব্রাহ্ম সমাজের প্রভাব মূলতঃ উচ্চবর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের কাছে এটি পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এছাড়াও, ব্রাহ্ম সমাজের কিছু আচার-অনুষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী সমাজের সাথে সংঘর্ষে পড়ে, যা বিরোধেরও সৃষ্টি করে।

উপসংহার: সব মিলিয়ে, ব্রাহ্ম সমাজ কোচবিহার রাজ্যের সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সামাজিক সংস্কার, মহিলা শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে তাদের অবদান অস্বীকার করার নেই। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তাদের ব্যর্থতা আছে, তবুও কোচবিহার রাজ্যে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলন এর অবদান অনস্বীকার্য.

PDF – Brahma Samaj Movement in Princely State of Cooch Behar -Download Now

History of Nort Bengal [DEC-2]

Cbpbu ug previous year question paper & Answer pdf

History Note- GROUP-C

Q. অ্যাংলো-কোচ (১৭৭৩ খ্রি.) চুক্তির উপর একটি সংক্ষিপ্ত নোট লেখ ।

Write a short note on Anglo-Koch Treaty (1773 AD).

Ans: ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে কামাতা-কোচ রাজ্য ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে অ্যাংলো-কোচ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির ফলে কামাতা-কোচ রাজ্য ব্রিটিশ রাজের একটি অধীন রাজ্যে পরিণত হয়। এই চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • কোচ রাজা নাজির দেও খগেন্দ্র নারায়ণ ব্রিটিশদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে সম্মত হন এবং ব্রিটিশ কোম্পানির নিরাপত্তায় রাজ্য পরিচালনা করবেন।
  • ব্রিটিশ কোম্পানি কোচ রাজ্যের সীমানা রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
  • কোচ রাজ্য ব্রিটিশ বাণিজ্যের জন্য মুক্ত অ্যাক্সেস প্রদান করে এবং ব্রিটিশ কর প্রদান করে।
  • এই চুক্তি কোচ রাজ্যের স্বাধীনতা কমিয়ে দেয় এবং ব্রিটিশ শাসনের অধীনে এনে দেয়।

Q. কোচবিহারে তামাক চাষ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত নোট লেখ।

Write a short note on Tobacco cultivation in Cooch Behar.

Ans: কোচবিহারের তামাক চাষের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। 17শ শতাব্দীতে কোচবিহার রাজ্যের রাজা ব্রজরাজ নারায়ণ তামাক চাষের প্রচলন করেন। তিনি তামাক চাষের জন্য বিশেষ উদ্যান স্থাপন করেন এবং তামাক চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেন।
ব্রিটিশ শাসনামলে কোচবিহারের তামাক চাষ আরও ব্যাপকতা লাভ করে। ১৮ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে তামাক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কারণ:

  • ব্রিটিশ সরকার তামাক চাষের জন্য জমি বরাদ্দ দেয় এবং কর ছাড় দেয়।
  • ব্রিটিশ কোম্পানি তামাক ক্রয় করে এবং লাভজনক বাজার প্রদান করে।
  • তামাক চাষ কৃষকদের জন্য আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে।

কিন্তু তামাক চাষের কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ছিল:

  • তামাক চাষের জন্য অন্যান্য ফসল চাষ কমে যায়।
  • মাটির গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • কৃষকরা ঋণের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার পর তামাক চাষ হ্রাস পায়, কিন্তু এখনও কোচবিহারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

PDF – Tobacco cultivation in Cooch Behar

Q. উত্তরবঙ্গে তেভাগা আন্দোলনে মহিলাদের ভূমিকা কী ছিল?

What was the role of Women in Tebhaga Movement in North Bengal?


Ans: ১৯৪৬ সালে উত্তরবঙ্গে সংঘটিত তেভাগা আন্দোলনে মহিলাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। শুধুমাত্র সংখ্যাত্মক উপস্থিতিই নয়, বরং নানাবিধ কাজের মাধ্যমে তারা আন্দোলনে মেরুদণ্ডের মতো কাজ করেছে। তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এইভাবে তুলে ধরা যায়:

  • সভা-সমাবেশ ও প্রচার: গ্রামে গ্রামে মহিলারা মিছিল, গান, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে জমিদারদের জুলুম, ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার এবং তেভাগার দাবি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরেছেন।
  • হাতিয়ার তৈরি ও বহন: লাঠি, ঝাঁটা, করাত, খুন্তি ইত্যাদি হাতিয়ার তৈরি করে তারা পুরুষদের পাশে আন্দোলনে সশর ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
  • পিকেটিং ও বাধা প্রতিরোধ: জমিদারের গুপ্তচর বা পুলিশি হামলা রুখতে মহিলারা গ্রামের প্রবেশপথে পাহারা দিয়েছেন।
  • অসহযোগ আন্দোলন: জমিদারদের কাজে বর্জন, কর্মবিরতি পালন করে আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়েছেন।
  • বন্দীদের পরিচর্যা ও সংগঠন: আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া পুরুষদের পরিবারের দেখাশোনা ছাড়াও, তাদের মুক্তির জন্য মিছিল ও আবেদন কর্মসূচি চালিয়েছেন।

মহিলাদের এই নিরলস কর্মকাণ্ড তেভাগা আন্দোলনে গতিশীলতা ও শক্তি এনেছে। তাদের সাহস ও ত্যাগ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

PDF – the role of Women in Tebhaga Movement in North Bengal – Download

Q. মালদার জিতু সাঁওতাল সম্পর্কে একটি ছোট নোট লেখ।

Write a short note on Jitu Santhal of Malda.

Ans: জিতু সাঁতাল মালদা জেলার একজন বিদ্রোহী নেতা ছিলেন। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সাঁতাল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এই বিদ্রোহের কারণ ছিল:

১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মালদায় জিতু সাঁতাল নামে একজন সাঁতাল নেতা বিদ্রোহী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে একজন লোকনায়ক হয়ে ওঠেন।

জিতু সাঁতালের কিছু উল্লেখযোগ্য কর্ম:

  • ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা চালানো।
  • গ্রামাঞ্চলে রেললাইন ও টেলিগ্রাফ লাইন উড়িয়ে ব্রিটিশ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয় ঘটানো।
  • স্থানীয় জনগণকে একত্রিত করে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

তবে অসম অস্ত্রের লড়াইয়ে অবশেষে বিদ্রোহ দমন করা হয়। জিতু সাঁতালকে বন্দী করে রাখা হয় এবং ১৯১৭ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

জিতু সাঁতাল মালদার ইতিহাসে এবং আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি কলোনিয়াল শাসনের বিরুদ্ধে সাহসের সাথে লড়াই করেছিলেন এবং আদিবাসীদের অধিকারের জন্য একটি প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

PDF – Jitu Santhal of Malda – Download

History of Nort Bengal [DEC-2]

Cbpbu ug previous year question paper & Answer pdf

GROUP-D

Leave a Reply