[New] আকবরের সময়ে শাসক শ্রেণী নিয়ে আলোচনা [ruling class during Akbar] | Nana Ronger Itihas। PDF [Download]

 

Discuss the ruling class during Akbar’s time.  
আকবরের সময়ে শাসক শ্রেণী নিয়ে আলোচনা করুন।

উত্তরঃ-  সম্রাট আকবরের সময়ে মুঘল শাসক গোষ্ঠী প্রকৃত অর্থে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী এবং হিন্দু ও মুসলমান উভয় এর সমন্বয়ে গঠিত ছিল। আকবর তার উদার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যোগ্যতা ও আনুগত্যের বিচারে বিভিন্ন মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল রাজকর্মচারীদের নিযুক্ত করেছিলেন। ফলে তাঁর অধীনস্থ রাজকর্মচারীদের মধ্যে ভারতীয় ও বিদেশী উভয় গোষ্ঠীর মানুষ পাশাপাশি নিযুক্ত ছিলেন। আকবরের অধীনে মুঘল শাসক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ছিল নিম্নরূপ:- 
i) মোঘল,                                                           
ii) রাজপুত, 
iii) ইরানি,                                                          
iv) তুরানি, 
v) আফগান। 
i) মোঘল:- স্বয়ং সম্রাট ছিলেন মুঘল এবং স্বাভাবিক ভাবেই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর ও পরবর্তী হুমায়ুনের সময় থেকে মুঘল অভিজাতগণ শাসনকার্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজদরবারে এবং সৈন্যবাহিনীতে বহু নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ মোঘল উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী পদে নিযুক্ত হয়ে সম্রাটের একান্ত আস্তাভাজন মানুষ হিসেবে দায়িত্বভার পালন করেছিলেন। 
ii) রাজপুত:-  বলাবাহুল্য আকবরের সময়ে মোঘল দরবারের শাসনতান্ত্রিক পরিমণ্ডলে রাজপুতদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আকবর রাজপুতদের নিষ্ঠা, বিরত্ব এবং আনুগত্যকে সাম্রাজ্যের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কাজে লাগিয়েছেন। তার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বারো জন মন্ত্রীর মধ্যে  আট ছিলেন রাজপুত। প্রধান সেনাপতি মানসিংহ, রাজস্বমন্ত্রী টোডরমল এবং প্রধান উপদেষ্টা বীরবল ছিলেন সম্রাট আকবরের আস্থাভাজন ব্যক্তি। 
iii) ইরানি:- মোঘল দরবারে ইরানি অভিজাত এবং দায়িত্বশীল কর্মচারীর সংখ্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। হুমায়ুনের সময় থেকে ইরানীর সাথে মোঘলদের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ ছিল। দরবারের পার্সি কবি ও সাহিত্যিকদের অবস্থান উল্লেখ যোগ্য ছিল। আবুল ফজল, আলিকুলি খান এবং নুরজাহানের পিতা ও ভ্রাতা এরা পর্যায়ক্রমে সকলেই ছিল ইরানি বংশোদ্ভূত। মোঘল শাসনকার্যে এই সকল ব্যক্তিরা নিজস্ব বিচক্ষণতায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলি কল করত এবং প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করত। 
iv) তুরানি:– উজবেক, কাজাকিস্তান, কিরঘিজ সহ মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল মুসলমান ইরানীয মুঘল না হয়েও দরবারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল, তারা সকলেই তুরানি গোষ্ঠীর উদাহরণ। আকবরের সময়ে তুরাণীদের অবস্থা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কিন্তু, সময়ান্তরে এরা ইরানীদের সমকক্ষ হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, আকবরের মৃত্যুর পর রাজপুতদের অবস্থা দুর্বল হলে ইরানী ও তুরানীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়। নিজ নিজ গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী করাই এই দ্বন্দ্বের মূল লক্ষ্য ছিল। 
v) আফগান:- আফগান অভিজাতদের ক্ষমতা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য না হলেও আকবরের সময়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন এই আফগানরা। 
পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট আকবর নিউজ দক্ষতা ও নিজ ব্যক্তিত্ব দ্বারা এই সকল গোষ্ঠীর সমন্বয় সাধন করে এক সুস্থির প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্ম দিতে পেরেছিলেন। বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যক্তিত্বরা উচ্চপদে আসীন থাকার ফলে আকবরের সময়ে মোঘলদের সঙ্গে এই সকল গোষ্ঠীর সরাসরি কোনো দ্বন্দ্ব বা প্রতিহিংশা চরিতার্থ করার মানসিকতা তেমনভাবে বৃদ্ধি লাভ করেনি। কিন্তু, পরবর্তী মোঘল সম্রাট বিশেষ করে ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালের পরবর্তীতে মোঘল দরবারে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সাম্রাজ্যের অবক্ষয়কে সুনিশ্চিত করে তুলেছিল সেই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আকবর এই সকল গোষ্ঠীর সমন্বয় সাধন করে যে উৎকৃষ্ট মানুষের পরিচয় দিয়েছিলেন বা এই সকল গোষ্ঠীর প্রধানেরা আকবরের কাছে যে আনুগত্য প্রকাশ করেছিল, পরবর্তী মুঘল সম্রাটদের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত ছিল।

Leave a Comment