[New] কামরূপে কোচ আধিপত্য [Kamrup Coach Dominance] | History of Cooch Behar | Nana Ronger Itihas। PDF [Download]



কামরূপে কোচ আধিপত্য


অহোমরা আসার আগে উত্তরবঙ্গ সহ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় কোচদের এক সমৃদ্ধিশালী রাজ্য ছিল এবং অহোমদের সাথে কোচ রাজাদের সংঘর্ষের এক দীর্ঘ কাহিনি আছে। রাজন্যশাসিত ত্রিপুরার মতো রাজন্যশাসিত কোচবিহারের রাজভাষা ছিল বাংলা। কোচবিহারের রাজারা কামরূপেও তাঁদের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। আমানতউল্লা আহমদ ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কোচবিহারের ইতিহাস গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, ১৪৯৬ সালে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহ সিংহাসনে বসেন। এবং সেই সময় থেকেই কোচ জনগোষ্ঠী রাজবংশী নামে পরিচিতি লাভ করে। বিশ্বসিংহের পুত্র নরনারায়ণ কামরূপ জয় করেন। নরনারায়ণের কামতাপুর রাজ্যই পরবর্তী সময়ে কোচবিহার নামে প্রসিদ্ধ হয়।



কোচদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্কের অন্ত নেই। মিনহাজউদ্দিনুস সিরাজ এই অঞ্চলের কোচ, মেচ্‌, থারু প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর সাথে সাইবেরিয়ার দক্ষিণপ্রান্তের মানুষের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছেন। Bryan Hodgson, Francis Buchanan Hamilton-এর মতে, কোচ, বোড়ো, ধিমাল প্রভৃতি উপজাতি একই শাখাভুক্ত। E. T. Dalton কোচদের দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর অংশ বলে মনে করেন। H. H. Risley-র ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গোলীয় ও দ্রাবিড়দের মিলনে উদ্ভূত কোচদের মধ্যে দ্রাবিড় প্রভাব বেশি ; অন্যদিকে

J. P. Wade-এর মতে, মোঙ্গল প্রভাব বেশি। আসলে, কোচ, মেচ প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর আদান প্রদান ও বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে উঠেছে। হিন্দুধর্ম গ্রহণ এবং সংস্কৃতায়ণের প্রভাবে উপজাতি নাম ‘কোচ’ পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হয়ে ‘রাজবংশী’তে পরিণত হয়েছে।




এক সময় কামতাপুর রাজ্যের গৌরব ছিল ‘খেন’ বা ‘খান’ রাজবংশ। খেন বংশের পতনের পরেই কোচ রাজশক্তির উদ্ভব হয়। একদিকে কোচ-আহোম এবং অন্যদিকে কোচ-মুঘল সংঘর্ষ, রক্তপাত, গৃহযুদ্ধ, সিংহাসন নিয়ে কলহ, অপশাসন ইত্যাদি গোলযোগে আহোমদের মতো কোচ ইতিহাসও পরবর্তী সময়ে ক্ষত-বিক্ষত। জয়নাথ মুন্সীর রাজোপাখ্যান গ্রন্থে এইসব ঘটনার বিবরণ আছে। কামরূপে কোচ আধিপত্যও অবশেষে বিনষ্ট হয় এবং কোচ-রাজ্যও নানাভাবে বিভক্ত হয়ে যায়।



Reference

1. Wikimedia Foundation. (2022, February 9). কামরূপ রাজ্য. Wikipedia. Retrieved June 3, 2022, from https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF

2. Chakravarti, M. (2007). Āsāmera itihāsa: Āhoma Yuga Paryanta. Pragresibha Pābaliśārsa.



।। আগ্রহী লেখকদের আহ্বান।।

আপনাদের মূল্যবান লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের। যেকোনোও সময়, যেকোনও দিন। আমরা প্রকাশ করবো।

বিষয়:-
বিজ্ঞানের আবিষ্কার,চলচ্চিত্র, খেলাধুলা, সভা-সমিতি, মনীষীদের জীবন, ধর্মান্ধতা, সামাজিক সংকট, কুসংস্কার বিরোধী, পলিটিক্যাল স্ক্যাম, পলিটিক্যাল ইস্যু, পলিটিক্যাল টেরোরিজম, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন যেকোন বিষয়েই লেখা পাঠানো যাবে।

নির্দিষ্ট কোন শব্দ সীমা নেই।
WhatsApp করে লেখা পাঠান:- 8116447650

…. প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আমাদের WhatsApp নম্বরে

Leave a Comment