[New] দাক্ষিণাত্য ক্ষত [Deccan wound] | Nana ronger Itihas

 

How did the Deccan Policy of Aurangzeb affect the Mughal Empire?
[আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি কীভাবে মুঘল সাম্রাজ্যকে প্রভাবিত করেছিল?]
Discuss the impact of Aurangzeb’s Deccan policy on the Mughal empire.
[মুঘল সাম্রাজ্যের উপর আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির প্রভাব আলোচনা কর।]
Discuss the Deccan policy of Aurangzeb
[ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি আলোচনা করো]
Aurangzeb’s Deccan policy
[ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি ]
Aurangzeb’s Deccan Policy pdf
[ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি pdf]

Ans. 

মধ্যযুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ছিল তার পূর্বসূরী আকবরের মুঘল সম্প্রসারণ নীতিরই অঙ্গ। প্রধানত দুটি মূল উদ্দেশ্যে তিনি দীর্ঘ 25 বছর দাক্ষিণাত্যে অতিবাহিত করেছিলেন। প্রথমত, দাক্ষিণাত্যের বিজ্ঞাপুর ও গোলকুণ্ডার মতো শিয়া রাজ্য দুটি দখল করে সাম্রাজ্য সীমা প্রসারিত করা ও দ্বিতীয়ত, মারাঠাদের দমন করে ঐ অঞ্চলে মুঘল আধিপত্য সুরক্ষিত করা। সম্রাটের এই দুই মূল উদ্দশ্যই সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছিল। কিন্তু এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে গিয়ে যে বিপুল অর্থ ও সময় বিনষ্ট হয়েছিল, তা মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই স্মিথ, যদুনাথ সরকার প্রমুখ ঐতিহাসিকরা ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্যে নীতিকে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের জন্য দায়ী করেছেন।

[UG] History Honors suggestion

1. B.A. Honors 3rd Semester | CBPBU

1636 খ্রিস্টাব্দে যুবরাজ ঔরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের সুবাদার নিযুক্ত হন। এই সময় তিনি বিজাপুর ও গোলকুণ্ডাকে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করতে সচেষ্ট হন। কিন্তু দারাশুকোর চক্রান্তে ঔরঙ্গজেবকে দিল্লি ফিরে যেতে হয়। আবার 1653 খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার তাঁকে দাক্ষিণাত্যে প্রেরণ করা হয়। এই সময় তিনি দাক্ষিণাত্যের অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোযোগী হন। টোডর মলের রাজস্ব ব্যবস্থা প্রয়োগ করে দাক্ষিণাত্যে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ঔরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করে মুঘল সাম্রাজ্য সম্প্রসারণে মনোযোগ দেন। এই সময় তিনি আবার বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা দখল করতে চেয়েছিলেন। শাহজাহান গোলকুণ্ডা ও বিজাপুরের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে পুনরায় ঔরঙ্গজেবকে যুদ্ধ বন্ধ করার আদেশ দেন। দক্ষিণী এই রাজ্য দুটি আপাতত তাদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখে। অবশ্য এই রাজ্য দুটির স্বাধীনতা ছিল নামমাত্র। বিজাপুর ও গোলকুন্ডা রাজ্য দুটির শক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। এই সুযোগে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তি দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। এই সময় ঔরঙ্গজেবের পুত্র দ্বিতীয় আকবর তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মারাঠা দরবারে আশ্রয় নেয়। এই জটিল পরিস্থিতিতে তিনি দাক্ষিণাতো দৃষ্টি নিক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। 1681 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1707 খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুকাল পর্যন্ত ঔরঙ্গজেব দীর্ঘ 25 বছর দাক্ষিণাত্যে অতিবাহিত করেন। বিজাপুর, গোলকুণ্ডা ও মারাঠাদের বিলুপ্তির কাজে তিনি এই সময় সর্বশক্তি নিয়োজিত করেন।

প্রথমে গোলকুণ্ডা, বিজাপুর ও মারাঠা শক্তি কেউই মুঘলদের কাছে মাথা নত করেনি। এই সময় শিবাজী দাক্ষিণাত্যে মুঘল অধিকৃত অঞ্চলে আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালাচ্ছিলেন। তিনি সুরাট বন্দর লুঠ করে প্রচুর ধনরত্ন লাভ করেন। ঔরঙ্গজেব 1659 খ্রিস্টাব্দে শিবাজীকে দমন করার উদ্দেশ্যে শায়েস্তা খাঁকে শিবাজীর বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। শায়েস্তা খাঁ শিবাজীকে পরাজিত করে পুনা, চাকন, কল্যাণ প্রভৃতি মারাঠা অধিগৃহীত অঞ্চল দখল করেন। মুঘলবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে জয়লাভ অসম্ভব দেখে শিবাজী 1663 খ্রিস্টাব্দে শায়েস্তা খাঁর ‘আবাস ভবনে’ অতর্কিত নৈশ অভিযান করেন। এই অভিযানে শিবাজী সাফল্য লাভ করেন। এরপর ঔরঙ্গজেব রাজপুত জয়সিংহকে শিবাজীর বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। জয়সিং শিবাজীর পুরন্দর দূর্গ অবরোধ করলে শিবাজী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। 1665 খ্রিস্টাব্দে শিবাজী ও জয়সিংহের মধ্যে পুরন্দরের চুক্তি সম্পাদিত হয়। সন্ধির শর্তানুসারে শিবাজীর 23টি দুর্গ মুঘলদের হস্তগত হয়। শিবাজীর পুত্র শম্ভুজীকে ‘পাঁচ হাজারী’ মনসব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে শিবাজীকে আল্লা দূর্গে বন্দি করা হলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। 1668 খ্রিস্টাব্দে শিবাজীকে শান্ত রাখার উদ্দেশ্যে ঔরঙ্গজেব তাকে ‘রাজা’ উপাধি দেন ও তার পুত্র শম্ভুজীকে পাঁচ হাজারী মনসব পদে নিযুক্ত করেন। কিন্তু 1670 খ্রিস্টাব্দে শিবাজী পুনরায় মুঘল সাম্রাজ্য আক্রমণ ও লুণ্ঠন শুরু করেন। তিনি একে একে পুরন্দর, কল্যাণ, সিংহগড় প্রভৃতি মুঘল হস্তগত দুর্গগুলি দখল করেন। 1680 খ্রিস্টাব্দে শিবাজীর মৃত্যু ঘটে।

শিবাজীর মৃত্যুর পর ঔরঙ্গজেবের বিদ্রোহী পুত্র আকবরকে শম্ভুজী রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে, ঔরঙ্গজেব ক্রুদ্ধ হয়ে 1682 খ্রিস্টাব্দে স্বয়ং দাক্ষিণাত্যে উপস্থিত হন। দাক্ষিণাত্যের আহম্মদ নগর থেকে সম্রাট ঔরঙ্গজেব স্বয়ং অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। চার বছর ব্যর্থ চেষ্টা করে তিনি মারাঠা শক্তিকে দুর্বল করতে পারলেন না। 1683 খ্রিস্টাব্দে শম্ভুজি মুঘলদের সঙ্গে সন্ধি করেন।

এরপর ঔরঙ্গজেব বিজাপুরের বিরুদ্ধে শাহজাদা আজমকে প্রেরণ করেন। মারাঠা ও গোলকুণ্ডার সাহায্য প্রাপ্ত হয়ে বিজাপুর দীর্ঘ আঠারো মাস ধরে মুঘলদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়। অবশেষে 1686 খ্রিস্টাব্দে বিজাপুর মুঘলদের হস্তগত হয়। বিজাপুর অধিকার করার পর ঔরঙ্গজেব গোলকুণ্ডা আক্রমণ করেন। গোলকুণ্ডার প্রাকৃতিক সম্পদ ও ধনরত্ন ঔরঙ্গজেবকে প্রভাবিত করেছিল। সম্রাট পুত্র মোয়াজ্জামকে গোলকুণ্ডা অবরোধের নির্দেশ দেন। প্রায় আট মাস অবরোধের পর 1687 খ্রিস্টাব্দে গোলকুণ্ডার কুতুবশাহী বংশের শেষ সুলতান আবুল হাসান আত্মসমর্পণ করেন। গোলকুণ্ডা মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। দক্ষিণের এই মুসলিম রাজ্য দুটি জয়ের পেছানে কোনো কোনো ঐতিহাসিক ধর্মনৈতিক অভিসন্ধি খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে ঔরঙ্গজেব ছিলেন একজন সুন্নি মুসলমান। কিন্তু এই রাজ্য দুটি শিয়াপন্থী ছিল বলে ঔরঙ্গজেব এদের বিরোধী ছিলেন। তবে এই মত যথার্থ নয়। কারণ মুঘল রাজদরবারের উচ্চপদে শিয়াদের আধিপত্য অটুট ছিল। আকবরের মাতা হামিদা বানু ছিলেন শিয়া। নুরজাহানও শিয়া পরিবারের কন্যা ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এই রাজ্য দুটি গ্রাসের পশ্চাতে ঔরঙ্গজেবের রাজনৈতিক মনোবৃত্তিই কাজ করেছিল তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা দখলের পর ঔরঙ্গজেব আবার মারাঠাদের দমনে অগ্রসর হন। ঔরঙ্গজেব যখন গোলকুণ্ডা ও বিজাপুর অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন শম্ভুজী তখন আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি যদি এই সময় সম্রাট পুত্র আকবরকে সামনে রেখে মারাঠা-বিজাপুর গোলকুণ্ডা মৈত্রী জোট তৈরি করে মুঘলদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হতেন, তাহলে ঔরঙ্গজেব চরম সঙ্কটের সম্মুখীন হতেন। কিন্তু শম্ভুজীর চারিত্রিক দুরদর্শিতার অভাবে মারাঠা শক্তির সর্বনাশ ঘটে। 1689 খ্রিস্টাব্দের 1লা ফেব্রুয়ারি মুঘল সেনাপতি মুবারক খান শম্ভুজীকে বন্দি করে। এরপর শম্ভুজীর ভাই রাজারাম মারাঠা সিংহাসনে অভিষিক্ত হন। মুঘল বাহিনী রায়গড় দুর্গ অবরোধ কালে রাজারাম পলায়ন করেন। রায়গড় মুঘলদের অধিকারে আসে। দাক্ষিণাত্যে সাফল্য লাভের ফলে সমগ্র ভারতবর্ষ মুঘলদের অধিকারে আসে। ডঃ যদুনাথ সরকার বলেছেন— “Thus by the end of year 1689, Aurangzeb was the unrivalled and paramount of Northern India and the Deccan alike.” সমগ্র দাক্ষিণাত্য সহ আসমুদ্র হিমাচল ভারতবর্ষের আধিপত্য ঔরঙ্গজেবের করতলগত হয়।

ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি সাফল্য লাভ করলেও, মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে তার ফল সুখকর হয়নি। ঐতিহাসিক এলফিন স্টোন, স্মিথ প্রমুখ তাঁর দাক্ষিণাত্য নীতিকে ভ্রান্ত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের বীজ দাক্ষিণাত্য নীতির মধ্যেই নিহিত ছিল। দীর্ঘ 25 বছর সম্রাট নিজেকে দাক্ষিণাত্যে নিয়োজিত করে রেখেছিলেন। যার ফলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভৃতি প্রায় সর্ব ক্ষেত্রেই এক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। উত্তর ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব হ্রাস পায়। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে সামস্ত শাসক যেমন জাঠ, বুন্দেলা, মালব, বাংলাদেশ প্রভৃতি স্থানে বিদ্রোহ দেখা দেয়। দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘদিন অভিযান চালানোর ফলে মুঘল রাজকোশ শূন্য হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে সৈনিকদের বেতন দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সেনাদলের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

সম্রাট দীর্ঘদিন রাজধানী থেকে দূরে থাকার ফলে রাজধানীতে গোষ্ঠী রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যা দমন করা পরবর্তী মুঘল সম্রাটদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। যদুনাথ সরকার মন্তব্য করেছেন, “The Deccan ulcer ruined Aurangzeb.” ভি. স্মিথ লিখেছেন, “দাক্ষিণাত্যই ঔরঙ্গজেব ও মুঘল সাম্রাজ্যের গৌরবের সমাধি প্রস্তর রচনা করে।” সুতরাং, সার্বিক বিচারে বলা যায়, ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি কেবল মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকরই হয়নি, তা মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্বংসের বীজ বপন করেছিল।

মধ্য ভারতের ইতিহাসের অন্যান্য বড় প্রশ্ন উত্তরঃ-

1. সুলতানীর পতন ও মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা

2. ইলতুৎমিসের কীর্তি

3. সুলতানি যুগের স্থাপত্য

4. ভক্তি আন্দোলন

5. শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা

6. শিবাজীকে কি মধ্যকালিন ভারতের সর্বশ্রেষ্ট

7. জায়গিরদারি সঙ্কট

8. আলাউদ্দিন খিলজি বাজারদর নিয়ন্ত্রণ

9. আকবরের রাজপুত নীতি

10. মুর্শিদকুলি খাঁর ভূমি-রাজস্বব্যবস্থা

Leave a Comment