চট্টগ্রামের বিদ্রোহ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভীতের কারণ | সূর্য সেন

আজ আমরা ১৯০৫ সালের পর অ্যাকটিভ থাকা দুটি গুপ্ত সংঘের কথা বলব। যার মধ্যে একটির অবস্থান তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত কলকাতায় আর অন্যটা ঢাকায়। হ্যাঁ, Logically ঢাকাও ব্রিটিশ শাসিত ছিল। একটাকে বলা হচ্ছে মানিকতলার বাড়ি ঘোষদের গোপন ডেরা আর অন্যটা তৈলক্ষ্য মহারাজের গুপ্ত সমিতি। দুই বাংলায় থাকা এই দুই গুপ্ত সংঘের উদ্দেশ্য ছিল একটাই। বাছাই করে করে সেসময় যুবকদের একত্রিত করা আর অস্ত্র জোগাড় করার চেষ্টা।

✰ কারণটা কী? ✰

প্ল্যান ছিল একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থানের ব্যবস্থা করা। বুঝতেই পারছেন এই সশস্ত্র অভ্যুত্থান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। আর এ সময়ে অনেক বিপ্লবী গ্রেফতার হন, অনেককে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়। আর অনেকের আবার আশ্রয় হয় আন্দামান দ্বীপে। এরই মধ্যে বাঘাযতীন আর তার সাথীদের মতো অজস্র শহীদের রক্তের উপর ভর করে এগিয়ে আসতে থাকে ব্রিটিশদের হটানোর কাঙ্ক্ষিত সময়। সেই সময় বাংলার দুটি মেজর শহরের কথা বললাম। আর এই দুই এর বাইরে যে শহরটার নাম আসবে সেটা হচ্ছে চট্টগ্রাম। এখানে কী হচ্ছিল? এই সব বিদ্রোহের পটভূমিতে সেসময় চট্টগ্রামের যুবকেরা এক ঘৃণ্য কাজে স্পষ্টভাষী ব্যক্তির নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর সেই লোকটাই ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেন। ব্রিটিশ কলোনিয়াল পার্ট তাঁকে এতটাই ভয় পেত যে, তার মৃতদেহ ওরা এই বাংলার মাটিতে পড়তে দেননি। সমুদ্রে ফেলে দিয়ে এসেছিল। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে কজন বিপ্লবী নাম আছে তাদের মধ্যে মাস্টারদা সূর্য সেনের নাম একেবারে উপরের দিকে থাকে। অজস্র বই, সিনেমা ডকুমেন্টারি হয়েছে তাঁকে নিয়ে। আর এই প্রবাদপুরুষের শুরু করে দেওয়া আন্দোলন নিয়েই আজকের আর্টিকেল।

1905 সালে বঙ্গভঙ্গের পর স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাবে বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও চরমপন্থী কার্যকলাপ পুরো ভারতবর্ষে বেশ বৃদ্ধি পায়। 1907 সালে আলীপুর বোমা হামলায় চট্টগ্রামের কয়েকজন যুবকের সম্পৃক্ততা, এই এলাকার যুবকদের মধ্যে বিপ্লবী মনোভাব ছড়াতে সাহায্য করে। 1908 সালে যামিনী সেন, মণীন্দ্র সেন আর অম্বিকা চক্রবর্তী সহ বেশ কয়েকজনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে গোপন বিপ্লবী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিপিনচন্দ্র পাল 1906 সালে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের নিয়ে অনুশীলন দল প্রতিষ্ঠা করেন। যেটা পরবর্তীতে অজস্র বিপ্লবীর প্রশিক্ষণের জায়গা হয়ে ওঠে। এরমধ্যেই আপনারা জানেন 1914 সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। আর সেসময় ব্রিটিশ সরকার ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতবাসীর সাহায্য কামনা করেন। কংগ্রেস ও ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার আশায় ইতিবাচক সাড়া দেয়। কিন্তু এই বিপ্লবীরা কংগ্রেসের এই নীতি সমর্থন করলেন না। তাঁরা মনে করলেন, ইংরেজদের শত্রুদের সাহায্য করলে তারা ভারতে ইংরেজ শাসনের অবসানে সাহায্য করবে। আর এইভেবে কিছু বিপ্লবী গোপনে জার্মানি গিয়ে জার্মানদের সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করে আসে, আর বার্লিনে গঠিত হয় ভারত জার্মান সমিতি। কিন্তু এই প্ল্যান আসলে কার্যকর হয়নি তখন। এরপর কিছুটা সময় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু দল চট্টগ্রামে কাজ করলেও প্রকৃত নেতৃত্বের অভাব দেখা যাচ্ছিল। এরপরেই 1918 সালে 11 জন তরুণ মিলে চট্টগ্রামে একটি গোপন বিপ্লবী দল গঠন করেন, যাদের মধ্যে সূর্য সেন, অনুরূপ সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিং নন্দলাল সিংহের মতো বিপ্লবীরা ছিলেন।

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, সেসময় চট্টগ্রাম কেন এরকম বিপ্লবীদের জন্য কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছিল? এটার পিছনে বেশ কয়েকটা কারণ আছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে চট্টগ্রামে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারাই 1904 সালে চট্টগ্রামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি তৈরি করে আর এই লাইব্রেরিতে সরাসরি কলকাতা থেকে ছাপানো দেশাত্মবোধক বই দিয়ে ঠাসা ছিল। এই কারণে চট্টগ্রামে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের সহজেই বিপ্লবী বইগুলো পড়ে নিজেদের অজান্তেই বিপ্লবীসত্তার জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। আর দ্বিতীয়ত চট্টগ্রাম একটা পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বিপ্লবী কার্যক্রম চালানো তাদের জন্য সহজ ছিল। আরেকটি কারণ ছিল, এক দিক সমুদ্র আর অন্যদিকে পাহাড়ে ঘেরা একটি চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠার কারণে মনে করা হয় ভূ-প্রকৃতিগতভাবে চট্টগ্রামের ছেলেমেয়েরা একটু বেশি সাহসী ছিল অন্য এলাকার তুলনায়।

এই সময় পুরো ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। 1921 সালে চিত্তরঞ্জন দাস অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে চট্টগ্রাম আসেন, আর সেখানে তাঁর সামনে সূর্য সেন ও তাঁর সহকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শপথবাক্য পাঠ করেন এবং অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবার জন্য ঘোষণা করেন।

কিন্তু, এর ঠিক এক বছর পরে 1922 সালের এপ্রিল মাসে প্রাদেশিক সম্মেলনে সূর্যসেন বুঝতে পারেন বিপিনচন্দ্র পালের প্রতিষ্ঠিত অনুশীলন দলের মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে পড়েছে। আর এই কারণে সূর্য সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী ও অনন্ত সিং এর সাথে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলেন।

বিভিন্ন বইয়ে এই দলের নাম বিভিন্নরকম দেওয়া থাকলেও কালীপদ চক্রবর্তীর মতে, এর নাম ছিল “ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি” আর পুলিশরা এর নাম দেয় “New Violence Party” । অন্যদিকে ডক্টর অমলেশ ত্রিপাঠী বিবরণ অনুযায়ী এই দলটার নাম ছিল “রেড বেঙ্গল পার্টি”

আর এখানেই নামটার সাথে রেট শব্দটা থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন, সূর্য সেন হয়তোবা কমিউনিস্ট চিন্তাধারার একজন মানুষ ছিলেন। এটা আসলে এটা এতটা অস্বাভাবিক কিছুও না। 1917 সালে রুশ বিপ্লব হয় এবং পরবর্তী দশকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া কমিউনিস্ট মতোধারা বাংলার এক বিপ্লবী নেতাকে Colonial Power বিরুদ্ধে প্রভাবিত করবে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে। আর পরবর্তীতে তাঁর দলের বিভিন্ন সদস্যের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করা এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এসময় শপথ অনুষ্ঠানে কালী পুজোর চল ছিল, বিপ্লবী অনন্ত সিংএর বইয়ে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে।

SHURJO SEN

Two more villages called Kliny and Izmailovo, which are also not a tribal patrimony. On this basis it was concluded that the tribal patrimony of the royal and imperial house is still unknown. Studies have been conducted on the grounds.

সূর্য সেনের দলও এই রীতিগুলো পালন করত এবং এই পুজোতে রক্ত দিয়ে ডালি সাজানো বা বুকের ওপর ওম চিহ্ন আঁকা এসব বেশ কিছু রিচুয়ালও ছিল। আর এই কারণে অনেকেই সূর্য সেনকে একেবারে গোড়া ধার্মিক একজন মানুষ মনে করেন। কিন্তু এই ধারণাটা পুরোপুরি ভুল। সূর্যসেন আর তার বিপ্লবীদের মধ্যে ধর্ম তেমন কিছুই ছিল না। তাদের একটাই ধর্ম ছিল। যেটাকে তারা বলত দেশভক্তি।

DESHBHAKTI

It has been considered for a long time that the tribal patrimony of the Romanovs – is a village Domnino of the Kostroma region. However, at the first examination it appears that this is a patrimony of mother M.F. Romanova, nee Ksenia Ivanovna Shestova, i.e. Shestovs patrimony.

কিন্তু সাধারণ মানুষের কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে আরও বেশি গ্রহণযজ্ঞ করার জন্য তিনি এমন বেশ কিছু রিচুয়াল রেখেছিলেন বলে অনেকেই মনে করেন। এমনকি সূর্য সেন নিরাপত্তা এবং জনমানুষের কাছে সাধারণ হিসেবে নিজেকে দেখানোর জন্য বেশিরভাগ বিপ্লবী স্ভা বিভিন্ন কালী মন্দিরে করে থাকতেন।

ক্রমশ:
পর্ব – ১

আপনাদের মূল্যবান লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের। যেকোনোও সময়, যেকোনও দিন। আমরা প্রকাশ করবো।
বিষয়:- বিজ্ঞানের আবিষ্কার,চলচ্চিত্র, খেলাধুলা, সভা-সমিতি, মনীষীদের জীবন, ধর্মান্ধতা, সামাজিক সংকট, কুসংস্কার বিরোধী, পলিটিক্যাল স্ক্যাম, পলিটিক্যাল ইস্যু, পলিটিক্যাল টেরোরিজম, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন যেকোন বিষয়েই লেখা পাঠানো যাবে। নির্দিষ্ট কোন শব্দ সীমা নেই।

WhatsApp করে লেখা পাঠান:- 8116447650 …. প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আমাদের WhatsApp নম্বরে …

Latest Update – Today

Leave a Comment